E-Paper

ঢাকা ফেরত নিতে নারাজ, সীমান্তে আটকে অনেকেই

নদিয়া সীমান্তের কাছে ভারতের কাঁটাতারের ও পারে শুক্রবার ভোর থেকে আটকে থাকা ১২ জনকেও ফেরত নিতে অস্বীকার করেছে বিজিবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০৮:৫৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

অসমের দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া। আপাতত বাংলাদেশিদের ‘পুশ ব্যাক’-এর ক্ষেত্রে মিলে গিয়েছে এই দুই এলাকা। দুই এলাকাতেই বিএসএফ যাঁদের ‘পুশ ব্যাক’ করতে চাইছে তাঁদের গ্রহণ করতে এখনও রাজি হয়নি বাংলাদেশ। ফলে তাঁরা আটকে রয়েছেন সীমান্তেই।

মানকাচরের ঝালচর সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ছ’জনকে এবংসাহাপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাকি তিন জনকে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও রয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ওই ব্যক্তিদের গ্রহণ করেনি। বিজিবি ও বাংলাদেশের গ্রামবাসীরা ‘পুশ ব্যাক’-এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হলেও সমাধানসূত্র বার হয়নি। ফলে ওই ৯ জনের স্থান হয়েছে দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘নো-ম্যানস্ ল্যান্ড’-এ।

অন্য দিকে, নদিয়া সীমান্তের কাছে ভারতের কাঁটাতারের ও পারে শুক্রবার ভোর থেকে আটকে থাকা ১২ জনকেও ফেরত নিতে অস্বীকার করেছে বিজিবি। তিন দিন পেরিয়েছে, দু’রাত রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে এখনও ওই দলটি নদিয়া সীমান্তের জ়িরোপয়েন্টের কাছাকাছি রয়েছে।

ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার ও পারে মাথাভাঙা নদীর তীরে লাগোয়া পাট খেতের পাশে শুক্রবার ভোর থেকে রবিবার দুপুর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কার্যত এক জায়গায় ওই ১২ জন দাঁড়িয়ে। ওই ১২ জনের মধ্যে চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার উজির আলির পরিবারের ৫ জন, শ্যামনগর থানার রফিকুল গাজির পরিবারে ৩ জন, এবং খুলনা ডুমুরিয়া এলাকার আফরোজা খাতুনের পরিবারে ৪ জন রয়েছে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনী রবিবারেও দাবি করেছে, ওই ব্যক্তিদের ভারত থেকে ঠেলে বাংলাদেশে পাঠানো হয়নি। তাই ভারতে ফেরত নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রবিবার সকাল থেকে ওই ব্যক্তিদের ধারে-কাছে কাউকেই ঘেঁষতে দিচ্ছে না বিজিবি। তবে বাংলাদেশের গ্রাম থেকে তাদের খাবার ও জল পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ভারতের নিয়মিত ‘পুশ ব্যাক’ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ভারতের বিজেপি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “সীমান্তে পুশ ইন করতে যখন এত আগ্রহ আপনাদের, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকেই পাঠিয়ে দিন এখানে, কারণ তাঁর বাড়ি তো বরিশাল। আমরা সম্মানের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে আতিথেয়তা দেব।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy