ভিন্ রাজ্যে গিয়ে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল মালদহের ছ’জন পরিযায়ী শ্রমিকের। রবিবার সকালে পঞ্জাবে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় হরিশ্চন্দ্রপুরের জনমদোলের বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক মা ও মেয়ের। গুজরাতের বরোদায় নির্মীয়মাণ বিদ্যুতের টাওয়ার ভেঙে পড়ে গাজলের তিন আদিবাসী পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বুধবার। শনিবার রাতে তাঁদের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছয় গ্রামে। বিহারের ছাপরার মাঝিঘাটে শুক্রবার নির্মীয়মাণ রেলসেতু থেকে পড়ে ইংরেজবাজারের নরহাট্টা পঞ্চায়েতের জোতগোপাল গ্রামের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বরোদায় মৃত তিন শ্রমিকদের মধ্যে বাবলু বাস্কে (৪০) ও রাজেন হেমব্রম (২৫)-এর বাড়ি গাজলের পাণ্ডুয়া পঞ্চায়েতের হোমাদিঘি ইটাসারি গ্রামে ও ফানু মার্ডি (৩০)-র বাড়ি রানিগঞ্জ ২ পঞ্চায়েতের গোডাং গ্রামে। বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পরে এলাকার অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে গুজরাতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে নির্মীয়মাণ বিদ্যুতের টাওয়ার ভেঙে তিন জনেরই মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে তাঁদের দেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে, কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। রাজেনের বোন অঞ্জলি মার্ডি বলেন, ‘‘দাদা পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিল। এখন সংসার কী ভাবে চলবে জানি না। সরকার যদি সাহায্যকরে, ভাল হয়।’’ একই আর্জি বাকি দু’জনের পরিবারেরও।
মাস দুয়েক আগে একটি বেসরকারি সংস্থার হয়ে বিহারের ছাপরার মাঝিঘাটে রেলসেতু তৈরির কাজে গিয়েছিলেন ইংরেজবাজারের জোতগোপাল গ্রামের ভীম মণ্ডল (৩০)। শুক্রবার সেই নির্মীয়মাণ সেতু থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে দেহ বাড়িতে আনা হয়। ভীমও ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। তাঁর পরিবারও সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায়।
রবিবার ভোরে পঞ্জাবে কাজে বেরিয়ে বাসের ধাক্কায় মারা যান হরিশ্চন্দ্রপুরের পিঙ্কি খাতুন (৩৫) ও তাঁর মেয়ে জাবেদা খাতুন (১২)। ভোটের পরে স্ত্রী পিঙ্কি, তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে পঞ্জাবে যান জাবেদ। সকলেই প্লাস্টিক কুড়োনোর কাজ করতেন। তাঁদের এক আত্মীয় নাজিমুল হোসেন বলেন, ‘‘মা-মেয়ের এ ভাবে মৃত্যু ভাবতে পারছি না!’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)