ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ওই মামলার আইনজীবী। পুরোদস্তুর আইনজীবীর পোশাকে বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন তিনি। সওয়ালও করেছেন। তার পরেই এ রাজ্যের বার কাউন্সিলকে চিঠি দিল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)। ‘আইনজীবী’ মমতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছে তারা।
বিসিআই জানতে চেয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম কবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। মমতার ‘লিগ্যাল প্র্যাকটিস স্টেটাস’ অর্থাৎ, আইনি পেশা সংক্রান্ত তথ্যও জানতে চেয়েছে দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ঠিক কবে আইনজীবী হিসাবে মমতার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, পেশা স্থগিত এবং পুনরায় শুরু তথা মমতার আইনি পেশার শংসাপত্র দেখতে চেয়েছে তারা। আগামী দু’দিনের মধ্যে ওই সমস্ত তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।
এর আগে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। তবে আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করেননি সে বার। তার আগে অবশ্য রাজ্যে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় আইনজীবী হিসাবে লড়েছেন মমতা। সম্প্রতি তিনি জানান, আইনজীবী হিসাবে আবার ‘লড়াই’ শুরু করবেন।
বৃহস্পতিবার আইনজীবীর গাউন গায়ে মমতা সওয়াল করেছেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। বস্তুত, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম বার উচ্চ আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। তার পর থেকে নিয়মিত তাঁর সদস্যপদ ‘রিনিউ’ (নবীকরণ) করে আসছিলেন। মানুষের জন্য আইনি যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে তিনি আইনজীবী হিসাবে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করতে এসেছেন।
হাই কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাঁর দলের প্রচুর কর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন। তৃণমূলের প্রায় ১৬০টি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ঘটনা ঘটে গিয়েছে। প্রাক্তন পুলিশমন্ত্রী আইনজীবীর বেশে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি নিজের এলাকার উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করতে পারছেন না। অনলাইনে অভিযোগ করতে হচ্ছে তাঁকে। প্রধান বিচারপতির এজলাসে আইনজীবী মমতা বলেন, ‘‘রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। পশ্চিমবঙ্গ কোনও বুলডোজ়ার রাজ্য নয়।’’
আরও পড়ুন:
তবে আদালত থেকে মমতা বেরোনোর সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন কয়েক জন। বিজেপির দাবি, এই কাজ করেছে তৃণমূলই। এক জন মহিলা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। যদিও আদালতে মমতার সঙ্গী আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঙুল শাসকদলের দিকে।