Advertisement
E-Paper

মিলল দু’টি দেহ, হদিস নেই বাকিদের

ছুটির দিনে কেউ গিয়েছিলেন স্নানে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে। রবিবার পৃথক দু’টি ঘটনায় তলিয়ে গিয়েছিলেন চার ছাত্র। বার্নপুরে দামোদরে তলিয়ে যাওয়া দুই স্কুলছাত্রের দেহ সোমবার উদ্ধার হল। তবে তাদের আরও এক সঙ্গী বা চিত্তরঞ্জনে অজয়ে তলিয়ে যাওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের হদিস মেলেনি রাত পর্যন্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০১:১১
ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের খোঁজে তল্লাশি অজয়ে। —নিজস্ব চিত্র।

ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের খোঁজে তল্লাশি অজয়ে। —নিজস্ব চিত্র।

ছুটির দিনে কেউ গিয়েছিলেন স্নানে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে। রবিবার পৃথক দু’টি ঘটনায় তলিয়ে গিয়েছিলেন চার ছাত্র। বার্নপুরে দামোদরে তলিয়ে যাওয়া দুই স্কুলছাত্রের দেহ সোমবার উদ্ধার হল। তবে তাদের আরও এক সঙ্গী বা চিত্তরঞ্জনে অজয়ে তলিয়ে যাওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের হদিস মেলেনি রাত পর্যন্ত।

রবিবার দুপুরে বার্নপুরের ভূতনাথ মন্দিরে দামোদরের ঘাটে স্নান করতে গিয়েছিল গণেশ মুখোপাধ্যায় (১৫)। সঙ্গে ছিল আরও দুই বন্ধু। কিন্তু কেউই ঘাট থেকে ফেরেনি। বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেখেন, দীর্ঘক্ষণ ধরে মন্দিরের ঘাটে তিনটি সাইকেল ও জামা-প্যান্ট পড়ে রয়েছে। এর পরেই খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এ দিন সকাল থেকে আসানসোলের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যেরা তল্লাশি শুরু করেন। গণেশের দেহ উদ্ধার হয় বার্নপুরেই। সে স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সন্ধ্যায় রানিগঞ্জের নিমচায় দামোদরের তিরাট ঘাটের কাছ থেকে মেলে গণেশের বন্ধু রবিশঙ্কর টাঙ্গির (১৬) দেহ। সে বার্নপুরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তাদের আর এক সঙ্গীর খোঁজ মেলেনি এ দিন।

দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র অরিত্র গঙ্গোপাধ্যায় রবিবার বিকেলে অজয়ে নেমে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, অরিত্র-সহ ওই কলেজের তিন ছাত্র রবিবার সকালে চিত্তরঞ্জনে এক বন্ধুর সহপাঠীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। চিত্তরঞ্জনের রেল আবাসনের ৫৬ নম্বর রাস্তা এলাকার বাসিন্দা ওই বন্ধুও সেই কলেজেরই ছাত্র। তাঁর বাবা চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার কর্মী। পুলিশ জেনেছে, চার বন্ধু সে দিন বিকেলে চিত্তরঞ্জনের হনুমান মন্দির লাগোয়া অজয়ের পাড়ে বেড়াতে যান। সেখানে পাড়ে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ছবি তোলার পরে তাঁরা হাঁটু জলে নামেন। তখনই বিপত্তি ঘটে। হঠাৎই হড়পা বান এসে পড়ায় টাল সামলাতে না পেরে দুই ছাত্র ভেসে যায়। অন্য দু’জন এক বন্ধুকে কোনও ভাবে টেনে আনতে পারলেও অরিত্রকে তুলতে পারেননি। তিনি জলের তোড়ে ভেসে যান। ওই ছাত্রেরাই বাড়িতে ঘটনার কথা জানান।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সে দিন বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তল্লাশিও শুরু হয়। তবে সে দিন মুষলধারায় বৃষ্টি চলায় ও দ্রুত অন্ধকার নেমে আসায় তল্লাশি বেশিক্ষণ চালানো সম্ভব হয়নি। সোমবার সকাল থেকে ফের উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাজ্য পুলিশের সপ্তম ব্যাটেলিয়ন, আরপিএফ এবং আসানসোলের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের দল যৌথ ভাবে তল্লাশিতে নামে। অরিত্রর বাড়ি হুগলির চন্দননগরে। সেখান থেকে এ দিন ভোরেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন তাঁর বাবা উজ্জ্বল গঙ্গোপাধ্যায় ও মা কুহেলি গঙ্গোপাধ্যায়। উজ্জ্বলবাবু বলেন, ‘‘ছেলে যে চিত্তরঞ্জনে বেড়াতে এসেছে তা জানতাম না। ওর বন্ধুদের কাছেই দুর্ঘটনার খবর পাই। তার পরে সব জানতে পারি।’’ তিনি জানান, প্রতি শনিবার অরিত্র বাড়ি ফিরতেন। আবার রবিবার বিকেলে দুর্গাপুর ফিরে আসতেন। এই শনিবার জানান, কলেজের কাজ আছে, তাই বাড়ি ফিরবেন না। কিন্তু চিত্তরঞ্জনে যাওয়ার ব্যাপারে কোনও কথা জানাননি। উজ্জ্বলবাবু বলেন, ‘‘হয়তো ভেবেছিল, শুনলে বকাবকি করা হতে পারে। তাই জানায়নি।’’ অরিত্রর মা কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ধানবাদ ও বিষ্ণুপুর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছন অরিত্রর দুই বন্ধুর বাবাও। তাঁরা অবশ্য জানান, ছেলেরা চিত্তরঞ্জনে বেড়াতে যাওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন। দুর্গাপুরের ফুলঝোড়ের ওই কলেজের স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার বিভাগের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক কৌশিক সেনাপতি বলেন, ‘‘অরিত্ররা কম্পিউটার সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। হস্টেলে থাকত। চিত্তরঞ্জনের এক সহপাঠীর বাড়িতে গিয়েছিল। অজয়ে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। কলেজের তরফে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি জানার চেষ্টা চলছে।’’ এডিসিপি (পশ্চিম) অনমিত্র দাস বলেন, ‘‘আমরা এখন ছাত্রের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছি। ঘটনা নিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। পরিবারের তরফেও কোনও অভিযোগ করা হয়নি।’’

2 bodies found Engineering Students Drowned Ajay River Damodar River
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy