E-Paper

বুদবুদের বুথে বাদ দেড়শো নাম, ক্ষোভ

বুদবুদে মসজিদতলা সাহেবপুকুর এলাকার ওই বুথে বহু সংখ্যালঘু মানুষের বাস। বাংলা ও হিন্দিভাষী বাসিন্দারা মিলেমিশে রয়েছেন এলাকায়।

বিপ্লব ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

দু’দিন আগেই নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআরের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরিয়েছে। সার্বিক তথ্য বুধবার পর্যন্ত না সামনে এলেও, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনেকের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরই মধ্যে, গলসি বিধানসভার বুদবুদ পঞ্চায়েতের ১২৯ নম্বর বুথে বাদ পড়ছে দেড়শোরও বেশি ভোটারের নাম। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথটির ওই ভোটারদের দাবি, তাঁরা এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। তার পরেও কী করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথামতো বেছে বেছে ভোটারদের বাদ দিচ্ছে। বিজেপির পাল্টা দাবি, রাজ্য সরকারের কর্মীরা ভোটার তালিকার কাজ করেছেন। ইচ্ছে করে বহু মানুষের নাম বাদদেওয়া হয়েছে।

বুদবুদে মসজিদতলা সাহেবপুকুর এলাকার ওই বুথে বহু সংখ্যালঘু মানুষের বাস। বাংলা ও হিন্দিভাষী বাসিন্দারা মিলেমিশে রয়েছেন এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথের প্রায় এগারোশো ভোটারের মধ্যে বাদ গিয়েছে ১৫২ জনের নাম। ওই ভোটারদের অনেকের অভিযোগ, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও, শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল তাঁদের। সেখানে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে সব নথি দেখানোর পরেও কেন নাম বাদ গেল, প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।টোটোচালক জানে আলম শেখের কথায়, ‘‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। এ ভাবে আমাদের হয়রান করা হচ্ছে।’’

বাসিন্দাদের অনেকেরই দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই এলাকায় বাস করছেন। এখন ভোটার তালিকায় নাম না থাকার ফলে, তাঁদের ফের আবেদন করতে হবে। সেখানেও নাম না উঠলে তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করছে তাঁদের মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘আমার পরিবারে চার জন সদস্য। এক জনের নাম উঠলেও, তিন জনের নাম বাদ গিয়েছে। এটা কী করে সম্ভব? নির্বাচন কমিশনের বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।’’ এলাকাবাসী জানান, শুধু ওই ব্যক্তি নয়, এলাকায় এমন উদাহরণ রয়েছে ভুরিভুরি। তাঁদের সকলেরই দাবি, সামনের বিধানসভা ভোটে যাতে তাঁরা ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে দেখুক।

বেধেছে রাজনৈতিক বিতর্কও। তৃণমূলের গলসি ১ ব্লক সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন চক্রান্ত করছে। যে যে জায়গায় আমরা এগিয়ে আছি, সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ‘বিবেচনাধীন’ নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ সব করেও কিছু করতে পারবে না। বিজেপির লোকেদেরই নাম তুলতে যা হয়রানি হয়েছে, তাঁরাই বিজেপিকে ভোট দেবেন কি না সন্দেহ আছে। নির্বাচনে মানুষ সব কিছুর জবাব দেবেন।’’ বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মার পাল্টা বক্তব্য, ‘‘তৃণমূল সবেই বিজেপির দোষ খোঁজে। নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করেছে। এখানে বিজেপির কোনও হাত নেই। রাজ্য সরকারের কর্মীরাই এই কাজগুলি করেছেন। তাই দায় তৃণমূলেরই।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Budbud

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy