গলায় গেরুয়া উত্তরীয়। কারও কারও মাথায় গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা। উড়ছে গেরুয়া আবির। মুহুর্মুহু উঠছে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। কিন্তু বিজেপির বিজয় মিছিল নিয়ে খবর নেই বিজেপি নেতাদের কাছেই! প্রশ্ন করতে গিয়ে বাক্বিতণ্ডা। সেখান থেকে মারামারি। ‘আদি’ এবং ‘নব্য’ বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে। পরিস্থিতি সামলাতে ছুটতে হল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
গন্ডগোলের সূত্রপাত শুক্রবার দুপুরে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালের সঁকরা গ্রাম এলাকায় বিজেপির নামে একটি বিজয় মিছিল বার হয়। কিন্তু স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ওই মিছিলের কথা তাঁরা জানতেনই না। কেউ কেউ হঠাৎ বিজেপি ‘সেজে’ মিছিল বার করেছেন। কার নির্দেশে ওই উদ্যোগ নেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন করতে যেতেই শুরু হয় বচসা। কিছু ক্ষণের মধ্যে সেটা গড়ায় হাতাহাতিতে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিজেপির নামে বিজয় মিছিল বার করা লোকজনের আদৌ কেউ পদ্মশিবিরের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁরা এতদিন তৃণমূল করেছেন। পালাবদলের পর বিজেপি সেজে নেতৃত্বের বদনাম করার চেষ্টা করছেন। এগুলো বরদাস্ত করা হবে না। যদিও মিছিলের উদ্যোক্তাদের দাবি, তাঁরা আগাগোড়া বিজেপি। মনেপ্রাণে বিজেপি।
কিন্তু বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতির অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের লোকেরা রাতারাতি বিজেপির ঝান্ডা ধরে বিজয় মিছিল করছিল। তারই প্রতিবাদ করতে গিয়ে মার খেতে হয়েছে।’’ প্রিয়াংশু রায় নামে বিজেপির এক যুব সভাপতি বলেন, ‘‘২০২১ সালে আমাদের উপর ওরাই অত্যাচার করেছে। তারা এখন বিজেপির হয়ে বিজয় মিছিল বার করছে। আমাদের মণ্ডল সভাপতির কাছেও এই মিছিলের খবর ছিল না। সে নিয়ে বলতে যেতেই আমাদের মেরেছে। তিন জন জখম হয়েছি।’’ ওই নেতার দাওয়াই, তৃণমূল যদি বাড়ে তাদের সামলানোর দায়িত্ব নেবেন বিজেপির আসল কর্মীরা।
আরও পড়ুন:
ওই গন্ডগোল সামলানোর সময় তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনায় ওই এলাকার বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রাখাল চন্দ্র দাস বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘‘বিজয় মিছিল হচ্ছিল। অথচ আমিই জানি না! এই বিজয় মিছিলে তৃণমূলের লোকেরাই বিজেপির ঝান্ডা ধরেছিল। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের মারধর করতে থাকে ওরা। পুলিশকে জানানো হয়েছে। কয়েক জনকে আটক করে অন্ডাল থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।’’