রাজ্যের দুই জেলায় তিনটি জায়গায় গরু পাচারের অভিযোগ! গ্রেফতার একাধিক। পাচারকারী সন্দেহে গণপিটুনিরও অভিযোগ উঠল তাদের মধ্যে একটি জায়গায়।
গরু পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত দু’টি ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানে। মঙ্গলবার ভোরে ১১ জোড়া বলদ উদ্ধার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পাচারকারী সন্দেহে দু’জনকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের নাম শেখ রফিকুল ইসলাম এবং মিন্টু শেখ। কাটোয়া থানার শ্রীখণ্ডে প্রথম জনের বাড়ি। দ্বিতীয় ব্যক্তি পূর্বস্থলী থানার নওপাড়ার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িতে মোট ১১ জোড়া বলদ নিয়ে জিটি রোড ধরে কাটোয়া ওভারব্রিজ়ের দিকে যাচ্ছিলেন ওই দু’জন। তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বলদের মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ কোনও কাগজপত্র দু’জন দেখাতে পারেননি।
পুলিশের সন্দেহ, পাচারের উদ্দেশ্যে বলদগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঝাড়খণ্ড থেকে অবৈধ ভাবে বলদ এনে কাটোয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবারই দু’জনকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়। ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আগামী ১৮ মে আবার তাঁদের আদালতে হাজির করানো হবে।
আবার মঙ্গলবারই পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে গরু পাচারের আরও একটি অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভাগীরথী দিয়ে গরু নিয়ে যাওয়ার চার ব্যক্তিকে ধরেন বিজেপি এবং বজরং দলের কর্মী-সমর্থকেরা। কাটোয়ার মাধাইতলা এলাকায় ওই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্তদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা চার জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, কাটোয়ার পানুহাট এলাকা থেকে পাঁচটি গরু নিয়ে ওই চার ভাগীরথীর ঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। বিজেপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, নদী পার করিয়ে নদিয়া হয়ে ওই গরুগুলিকে বাংলাদেশে পাচারের ছক ছিল। অভিযুক্তদের ধরা হলে তাঁরা গরুর মালিকানা সংক্রান্ত কোনও কাগজ দেখাতে পারেননি। পদ্মশিবিরের এ-ও অভিযোগ, কাটোয়ায় ভাগীরথীর পাঁচটি ফেরিঘাটকে দীর্ঘ দিন ধরে ‘সেফ করিডর’ হিসাবে ব্যবহার করছেন গরু পাচারকারীরা। উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গরু বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। ধৃত চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
অন্য দিকে, ওড়িশা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর সীমান্তের সোনাকোনিয়া নাকা চেক পয়েন্ট এলাকায় তল্লাশির সময় একটি কন্টেনার আটক করেছে দাঁতন থানার পুলিশ। ওই মালবাহী যানের ভিতরে ছিল ৩৩টি গরু। পুলিশ সূত্রে খবর, ওড়িশা থেকে খড়্গপুর যাচ্ছিল গরুভর্তি কন্টেনার। গাড়ির চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।