E-Paper

বিধায়কদের নর্দমা সাফাই তদারকের নির্দেশ অগ্নিমিত্রার

এ দিন দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত বৈঠকে ছিলেন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার বিধায়ক, মন্ত্রী ও আধিকারিকেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১০:০১
দুর্গাপুরে বৈঠক। নিজস্ব চিত্র

দুর্গাপুরে বৈঠক। নিজস্ব চিত্র

বিভিন্ন পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে দ্রুত নতুন জল প্রকল্পের অনুমোদন, বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র নির্মাণে অগ্রাধিকার, দ্রুত সমস্ত নিকাশি ব্যবস্থা সাফাই— মঙ্গলবার দুর্গাপুরে পাঁচ জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে এই সব কাজে জোর দেওয়ার কথা জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

এ দিন দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত বৈঠকে ছিলেন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার বিধায়ক, মন্ত্রী ও আধিকারিকেরা। ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। সূত্রের খবর, মূলত সব জেলা থেকেই জল, রাস্তা, নিকাশি, অবৈধ দখলদারের সমস্যার কথা উঠে আসে। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই দুর্গাপুরের জন্য নতুন জলপ্রকল্পের আর্জি জানান। আউশগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাঝি জানান, গুসকরায় বহু দিন আগে জলের পাইপলাইন বসানো হয়েছে। কিন্তু জল আসে না। অগ্নিমিত্রা বলেন, “জল যাবে কী করে? জলের তো ব্যবস্থাই করা হয়নি। চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ফারাক মেটাতে হবে। নতুন প্রকল্প জমা দিতে বলা হচ্ছে পুরসভাকে। দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে।”

বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র শহরে জল জমা, বেহাল নিকাশির সমস্যার কথা জানান। অগ্নিমিত্রা জানান, প্রত্যেক বিধায়কদের দাঁড়িয়ে থেকে নর্দমা সাফাইয়ের কাজ করাতে হবে, যাতে বর্ষায় জল না জমে। ডেঙ্গি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেন তিনি। তিনি জানান, বর্ষায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যাতে কোনও বিপদ না হয়, সে জন্য নিজেদের এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি পরিদর্শনের দায়িত্ব নিতে হবে। গাফিলতি হলে মেনে নেওয়া হবে না। ডেঙ্গি দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে নর্দমা সাফাইয়ে অগ্রাধিকারের নির্দেশ দেন তিনি। দুর্গাপুর পুরসভায় ৫টি বরোয় টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র না থাকায় বিভিন্ন পুরসভায় বর্জ্যের পাহাড় জমেছে বলে অভিযোগ করেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, “জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ার জন্য জায়গা খুঁজে বার করতে।”

রাজ্যে পালাবদলের পরে দুর্গাপুর পুরসভায় গিয়ে বিজেপির বিধায়কেরা নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু এখনও অভিযুক্তরা পদে বহাল রয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, “সব পুরসভাতেই দুর্নীতির তদন্ত হবে। দোষীরা ছাড় পাবে না। দুর্গাপুরে সরকারি জমি প্লট করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। সব তদন্ত হচ্ছে। যেমন, রামপুরহাট নিয়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়ে গিয়েছি।” নতুন সরকার আসার পরে বহু পুরসভা এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। মন্ত্রী জানান, ১০-২০ লক্ষ টাকার মধ্যে নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলির কাজ খতিয়ে দেখতে এক বা দু’জন আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁরা পরিদর্শন করে যদি দেখেন, নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে, তা হলে বরাদ্দ ছাড়া হবে। তবে যেগুলি এক কোটি টাকা বা তার বেশি বাজেটের কাজ, সেগুলির ক্ষেত্রে কমিটি গড়া হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Durgapur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy