×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৬ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

TMC: থানায় গিয়ে পুলিশকে সংবর্ধনা ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় অভিযুক্তের, বিতর্ক বর্ধমানে

নিজস্ব সংবাদদাতা
বর্ধমান ২২ জুলাই ২০২১ ২৩:০৯
এই ছবি ঘিরেই বিতর্ক বর্ধমানে।

এই ছবি ঘিরেই বিতর্ক বর্ধমানে।
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া।

পুলিশের খাতায় তিনি ফেরার। কিন্তু জামিন অযোগ্য ধারার মামলায় অভিযুক্ত পূর্ব বর্ধমানের সেই তৃণমূল নেতা থানায় গিয়ে পুষ্প স্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানালেন আইসি-কে! এই অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে পূর্ব বর্ধমানে

স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বর্ধমান থানায় গিয়ে আইসি সুখময় চক্রবর্তীকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা দেন রায়ান-১ অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি শেখ জামাল। এর পরেই সংবর্ধনা দেওয়ার সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে । যদিও আনন্দবাজার অনলাইন ছবির সত্যতা যাচাই করেনি। আইনজীবীদের একাংশের মতে, অভিযুক্তের হাত থেকে সংবর্ধনা নিয়ে আইন ভেঙেছেন আইসি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

Advertisement

জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বর্ধমান থানার নাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জামালের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে নাড়ি বেলবাগানের বাসিন্দা সঞ্জয় দাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, গত ২৮ মে সকাল ১১টা নাগাদ জামালের নেতৃত্বে কয়েকজন দুষ্কৃতী মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যান। তারপর বেলবাগান এলাকায় রাস্তায় ফেলে তাঁকে রড, লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। জামাল বন্দুক দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এমনকি, পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেন। পাশাপাশি, বাড়ির মহিলাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং এফআইআর।

তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং এফআইআর।


খবর পেয়ে সঞ্জয়ের দাদা কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সেখানে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তফসিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিধিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে। যদিও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। জামালের অত্যাচার নিয়ে জেলার পুলিশ সুপারের কাছেও বিরোধীদের তরফে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়। অভিযোগ, তার পরেও সক্রিয় হয়নি পুলিশ।

এই পরিস্থিতিতে আইসি সুখময়কে জামালের সংবর্ধনা দেওয়ার ছবি সামনে আসতেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। অভিযোগ উঠেছে হাইকোর্টের নির্দেশের পর পুলিশ কিছুটা সক্রিয় হয়ে মামলা রুজু করলেও অভিযুক্তদের ধরা হচ্ছে না। পুলিশ ও শাসকদলের দুষ্কৃতীদের মাখামাখির অভিযোগও তুলেছে তারা। স্থানীয় বিজেপি নেতা কল্লোল নন্দন বলেন, ‘‘এর থেকে প্রমাণিত হচ্ছে শাসকদলের নেতাদের সাতখুন মাফ। অভিযুক্ত হয়েও দিব্যি থানায় গিয়ে আইসিকে ফুল দিয়ে আসছে।’’ এ বিষয়ে জামালের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

অন্যদিকে আইসি সুখময় বলেন, ‘‘আমি নতুন থানায় যোগ দিয়েছি। সকলকে এখনও চিনি না।’’ রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, ‘‘কী হয়েছে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’’

Advertisement