রাতের অন্ধকারে মঙ্গলকোটের বেশ কয়েকটি জায়গায় তৃণমূলের প্রার্থী বদলের দাবিতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছিল। তৃণমূলর সূত্রের খবর, ওই দৃশ্য দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব উস্কে দিয়েছে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এর নেপথ্যে বিজেপি রয়েছে বলে অভিযোগ তুললেও এলাকাবাসী ও তৃণমূল কর্মীদের একাংশ তামানতে নারাজ।
গত প্রায় দু’বছর ধরে সরকারি প্রকল্পের কাজের দখল ও পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েতগুলির ক্ষমতা কোন পক্ষের হাতে থাকবে, তা নিয়ে বার বার তৃণমূলের কোন্দল সামনে এসেছে। এর থেকেই একাংশের অনুমান, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। স্থানীয় ও তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোটের বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অপূর্ব চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে নতুন কাউকে প্রার্থী করার দাবিতে পালিগ্রাম, চাণক, গোতিষ্ঠা-সহ কয়েকটি জায়গায় রাস্তার ধারে একাধিক বড় ফ্লেক্স টাঙানো হয়। এর পরেই গুঞ্জন শুরু হয় তৃণমূলের অন্দরে। কোন্দলে রাশ টানতে তৎপর হন নেতৃত্ব। তৃণমূল সূত্রের খবর, ওই ঘটনায় কারা জড়িত, তা জানতে বুধবার খোঁজখবর নেন দলের নেতৃত্ব। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপূর্ব বলেন, “যিনি বা যাঁরা ওই কাজ করেছেন, তাঁরা কোথাও পাত্তা পাচ্ছেন না। তাই চোরের মতো রাতের অন্ধকারে ওই কাজ করেছে।’’
তৃণমূল সূত্রের খবর, বছর দুই আগেই বিধায়কের সঙ্গে দলেরই নেতা-কর্মীদের একাংশের সম্পর্কের অবনতি হয়। পরিস্থিতি এতই জটিল হয়ে ওঠে যে, কোন্দল এড়াতে বছর দেড়েক আগে মঙ্গলকোট থানার সামনে দলেরই একটি কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাস তিনেক আগে ঐক্যের বার্তা দিয়ে কার্যালয়টি খোলা হলেও তার একদিন পরেই ফের অশান্তি হয়। তৃণমূলের অন্দর মহলের খবর, বিধায়ক-বিরোধী শিবিরের নেতারা লাগাতার মঙ্গলকোটের নানা এলাকায় সমান্তরাল কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি, কোথাও কোনও সমস্যায় পড়লে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আর্জি জানিয়ে সমাজ মাধ্যমে আবেদন করেন বিধায়ক-বিরোধী শিবিরের বলে পরিচিত এক তৃণমূল নেতা। তাঁর সঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতির দুই কর্মাধ্যক্ষকে সব সময়ে দেখা যায়। তাঁদের মাথায় রয়েছে আবার জেলার গ্রামীণ এলাকার এক নেতা। বেশ কয়েক বার বিধায়কের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে সরব হতেও দেখা গিয়েছে তাঁদের। জেলা নেতৃত্ব এই সব ঘটনাকে উপদলীয় কার্যকলাপ বলে মনে করেন। চাণক গ্রামের এক তৃণমূল কর্মী বলেন, “দলীয় কোন্দলের কারণেই যে বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে প্রার্থী বদলের দাবিতে ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে, তা পরিষ্কার। ভোটের আগে দলের অন্দরে ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে। অযথা বিরোধীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই।”অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে ফ্লেক্সের ছবি তুলতে গিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতার হাতে সাংবাদিকদের নিগৃহীত হতে হয়। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। মোবাইলে তোলা ছবিও জোর করে মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়। সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। অপূর্বের কথায়, ‘‘সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া মোটেই কাম্য নয়।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)