নতুন জেলা ঘোষণার পরের দিনটা ছিল ছুটি। কিন্তু ছুটি কাটানোর উপায় নেই। শনিবার নিজের দফতরে এসে খানিক কাজকর্ম সেরে গেলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক শশাঙ্ক শেঠি-সহ জেলা প্রশাসনের বেশ কিছু আধিকারিক। সোমবার থেকে সব দফতরে পুরোদমে কাজ শুরু হবে বলে জানান জেলাশাসক।
শুক্রবার আসানসোলের সভা থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জেলা ঘোষণা করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন জেলাশাসক বলেন, ‘‘শুক্রবার থেকেই সরকারি ভাবে নতুন জেলার দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছি। সোমবার থেকে পুরো সময়ের জন্য দফতরে বসব।’’ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন কয়েকজন আধিকারিকের সঙ্গে নিজের দফতরে বৈঠক করেন জেলাশাসক। নতুন জেলায় প্রশাসনিক পরিকাঠামো এখনও সে ভাবে গড়ে ওঠেনি। কিন্তু নাগরিকেরা প্রথম দিন থেকেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পেতে চাইবেন। সীমিত পরিকাঠামোয় উপযুক্ত পরিষেবা দেওয়া নিয়েই এ দিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নতুন জেলা ঘোষণার পরেই নাগরিকদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা নানা দলিলের মতো ব্যক্তিগত নথিপত্রে জেলার নাম বর্ধমান থেকে পাল্টে পশ্চিম বর্ধমান করাতে হবে কি না। এ প্রসঙ্গে আসানসোলের মহকুমাশাসক প্রলয় রায়চৌধুরী জানান, এখুনই এ বিষয়ে কোনও সরকারি নির্দেশিকা আসেনি। তবে সাধারণত, নির্বাচনী জেলা ঘোষণার পরেই ভোটার কার্ডে নতুন জেলার নাম লেখা হয়। এ ক্ষেত্রে শুক্রবারের আগে পর্যন্ত যাঁদের ভোটার কার্ড তৈরি তাঁদের জেলার নাম পরিবর্তন করতে হবে না। অন্য নানা সরকারি কাগজপত্রেও নাম বদলের দরকার নেই। তবে ৭ এপ্রিলের পরে তৈরি সমস্ত নথিতে জেলার নতুন নাম লিখতে হবে, জানান মহকুমাশাসক।