শ্মশানের বৈদ্যুতিন চুল্লির কার্বন-দূষণ কমানোর ব্যবস্থা বেহাল, এই অভিযোগ উঠেছে বীরভানপুরে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এর জেরে কার্বন সরাসরি চুল্লির মাধ্যমে বার হচ্ছে। পুরসভা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
বীরভানপুরে শ্মশানে দুর্গাপুর পুরসভা বৈদ্যুতিন চুল্লি গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয় ২০০২ সালে। ২০০৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চালু হয় বৈদ্যুতিন চুল্লি। প্রতিদিন গড়ে ১২-১৪টি করে দেহ আসে শ্মশানে। শ্মশান সূত্রে জানা গিয়েছে, চুল্লির ধোঁয়া ও জল পৃথক পৃথক প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার পরে তা বার করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কার্বন যতটাসম্ভব কম বাতাসে মেশে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ব্যবস্থাটি কেমন? দাহ করার সময়ে যে ধোঁয়া বা গ্যাস উৎপন্ন হয়, তা একটি বাক্সের মধ্যে যায়। সেই বাক্স থেকে পাইপের মাধ্যমে তা ভবনের বাইরে বেরিয়ে আসে। এর পরে দু’টি বড় শোধন ব্যবস্থার যন্ত্রের (ফিল্টার) মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়। সেখানে জলের সাহায্যে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে কার্বনের পরিমাণ কমানো হয়। এর পরে তা পাঠানো হয় একটি বড় ছাঁকনির মধ্য দিয়ে। ধোঁয়া ছাড়া যে সমস্ত উপাদান থাকে, সেগুলি সেখানে আটকে যায়। এর পরে তা পাইপের সাহায্যে উপরে বাতাসে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই ভাবে কার্বন ধোয়া জল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দামোদরে ছাড়া হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু দিন ধরে ধোঁয়া ও জল— দু’টি প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা বেহাল।
শ্মশানযাত্রীরা জানান, ওই দূষিত নোংরা জল গিয়ে যেখানে দামোদরে পড়ছে, সেখান থেকে তাঁরা শ্মশানে সৎকারের শেষ সময়ে ব্যবহারের জন্য জল নিয়ে আসেন। অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শ্মশানে আসা বেনাচিতির বাসিন্দা রজত দে বলেন, “খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি। এটা মোটেও কাম্য নয়। পুরসভার উচিত দ্রুত পদক্ষেপ করা।” স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কার্বন হ্রাসের পদ্ধতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চুল্লি দিয়ে অতিরিক্ত কার্বন বেরোচ্ছে। আশিসনগর এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, “আগে কাঠের জ্বালানিতে শব দাহ করা হত। দূষণ আটকাতে বৈদ্যুতিন চুল্লি গড়ে তোলা হল। কিন্তু এখন যা পরিস্থতি, তাতে দূষণ ফের বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য রাখি তিওয়ারি বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)