E-Paper

নেতৃত্বের বৈঠকেও মুখোমুখিহলেন না কংগ্রেসের দুই প্রার্থী

এক সময়ে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন দেবেশ। পরে সেই পদে আসেন তরুণ। এখন আবার জেলা সভাপতি দেবেশ।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শহরের দুই কংগ্রেস নেতার মধ্যে দূরত্ব গত কয়েক বছরে বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাচক্রে, সেই দুই নেতাকেই এ বার দুর্গাপুরের দুই আসনে প্রার্থী করেছে দল। রবিবার তাঁদের সমর্থনে কর্মসূচিতে দুর্গাপুরে এসেছিলেন দলের পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীর ও প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। সেই সভাতেও দু’জনকে এক সঙ্গে দেখা না যাওয়ায়, ভোটের মুখে দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে দলেরই কর্মীদের একাংশের মধ্যে।

এক সময়ে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন দেবেশ। পরে সেই পদে আসেন তরুণ। এখন আবার জেলা সভাপতি দেবেশ। দলের কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দেবেশ সভাপতি থাকার সময়ে দলীয় কর্মসূচিতে তরুণকে দেখা যায় না। আবার তরুণের সময়ে ঘটেছিল ঠিক উল্টোটা। দল কোনও কর্মসূচি নিলে দু’জন আলাদা ভাবে পালন করেন। দলের কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী রণজিৎ মুখোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছিল দেবেশকে। প্রচারে দেখা যায়নি তরুণকে। দেবেশকে ২০২১ সালে দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রার্থী করেছিল দল। সে বারও তরুণকে প্রচারেদেখা যায়নি। দলের বিভিন্ন কর্মসূচি, যেমন কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধীর স্মরণে সভা-সহ যে কোনও কর্মসূচিই দুই নেতা বরাবর পৃথক ভাবে পালন করেন।

তরুণ বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি। দল তাঁকে দুর্গাপুর পশ্চিমের এবং দেবেশকে দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী করেছে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, রবিবার ডিএসপি টাউনশিপের বিধান ভবনে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সব আসনের প্রার্থীদের নিয়ে রাজ্যের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীর ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সাংগঠনিক বিষয়ে বিশদে আলোচনা করেন। বিধানসভা ভোটের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। স্বাগত ভাষণ দেন দেবেশ।

এ দিনের সভায় তরুণ ছাড়া, পশ্চিম বর্ধমানের বাকি আট আসনের প্রার্থীরা ছিলেন। ছিলেন গলসির প্রার্থীও। দেবেশ বলেন, “এক জন প্রার্থী আসেননি। কেন আসেননি, সেটা তিনিই বলতে পারবেন।” তরুণ জানান, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরসা, সুকান্তপল্লি, জিতেননগর প্রভৃতি এলাকায় জনসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। গোলাম ও শুভঙ্কর যখন ফেরার সময় অন্ডাল বিমানবন্দরে পৌঁছন, তখন সেখানে গিয়ে তরুণ তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন। তরুণের বক্তব্য, “বিমানবন্দরে গিয়ে বিশদে কথা হয়।” দেবেশের মুখোমুখি না হতেই কি তিনি প্রচারসূচিতে বদল আনেননি? তরুণ বলেন, “তেমন কিছু নয়। অনেক আগে থেকে প্রচারসূচি তৈরি ছিল। কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই অপেক্ষা করছিলেন আমার জন্য। তাই প্রচার সেরে বিমানবন্দরে গিয়ে নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করি।”

মৃত্যুতে ভাঙচুর

অন্ডাল: চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে রবিবার। অন্ডাল মোড়ের ঘটনা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অরবিন্দ নগরের বাসিন্দা এক মহিলা পেটে যন্ত্রনা নিয়ে ১০ এপ্রিল সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর পরিবারের সদস্যেরা জানান, পিত্তথলিতে পাথর আছে বলে শনিবার অস্ত্রোপচার করা হয়। রবিবার সকালে মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দাবি, চিকিৎসকের গাফিলতির জন্যই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন রাত পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ হয়নি। গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, রোগীর পরিবারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Durgapur Congress

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy