E-Paper

‘পথশ্রী’ প্রকল্পে তৈরি রাস্তায় দু’মাসেই ফাটল

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাস দুয়েক আগে ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় জেলা পরিষদের অধীনে ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই রাস্তা সংস্কার হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৮:১৩
ফেটে গিয়েছে রাস্তা। নিজস্ব চিত্র

ফেটে গিয়েছে রাস্তা। নিজস্ব চিত্র

তৈরির মাত্র দু’মাসের মধ্যে বেহাল ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে তৈরি রাস্তা। এই অভিযোগ উঠেছে, সালানপুর ব্লকের কল্লা পঞ্চায়েতের ঢ্যাঁড়সপুর গ্রামের শীতলা মন্দির থেকে পাহাড়পুর গ্রাম পর্যন্ত তৈরি রাস্তা নিয়ে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। ক্ষোভ বাড়তে থাকায় বুধবার থেকে ফের কাজ শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাস দুয়েক আগে ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় জেলা পরিষদের অধীনে ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই রাস্তা সংস্কার হয়। কিন্তু মাস দুয়েকের মধ্যেই সেই
রাস্তার কোনও অংশে ঢালাই উঠে উঠেছে, কোনও অংশে আবার ঢালাই ফুলে উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা ১২ ফুট চওড়া হওয়ার কথা থাকলেও, তা মাত্র ১০ ফুট করা হয়েছে। অভিযোগ, পুরনো ঢালাই না তুলে তার উপরে নতুন করে ঢালাই করা হয়েছে। রাস্তা তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারেও অভিযোগ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম সেন জানান, জানুয়ারিতে রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল। শীতলা মন্দির থেকে ঢ্যাঁড়সপুর পর্যন্ত অংশে প্রায় ২৫০ মিটার মতো রাস্তার কাজ এখনও বাকি। এর মধ্যেই যেটুকু রাস্তা তৈরি হয়েছে, তা বেহাল হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাস্তা তৈরিতে কোনও উন্নত মানের যন্ত্রও ব্যবহার করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসন তদন্ত করে ফের রাস্তা সংস্কার করুক। তা না হলে আমরা গণসই সংগ্রহ করে আন্দোলনে নামব।” আর এক বাসিন্দা জ্যোৎস্না সেনের দাবি, “রাস্তার কাজ ঠিক ভাবে হয়নি। গ্রামে নিকাশি নালার ব্যবস্থাও করা হয়নি। দুর্নীতি হয়েছে। ভাঙা রাস্তার কারণে গ্রামবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।” এলাকাবাসীর দাবি, এই রাস্তা দিয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। সম্প্রতি এক যুবক এই রাস্তার কারণে হাতে চোটও পেয়েছেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ক্ষোভ বাড়তে থাকায় বুধবার ফের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

জেলা পরিষদের সদস্য বেবি মণ্ডলের দাবি, রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গায় তিনি আগেই লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন। তৎকালীন বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় ও জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পদক্ষেপ করা হয়নি। যদিও জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি বলেন, ‘‘জেলা পরিষেদের সদস্য যখন অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তখন কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কাজ যখন হচ্ছিল, তখন অভিযোগ করলে ভাল হত। ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Salanpur Pathasree Project

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy