হুল দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার জেলায় নানা অনুষ্ঠান হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাণ্ডবেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিধো, কানহো, চাঁদ, ভৈরব-সহ হুল বিদ্রোহে শামিল অন্য বীরদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। জনজাতি সম্প্রদায়ের ৩০ জন মেধাবী পড়ুয়ার ল্যাপটপ দেওয়া হয়। ছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, জেলা ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা। রানিগঞ্জের বাঁশড়ায় এসটিডি ক্লাবের পক্ষ থেকে শহিদ বেদিতে মালা দেওয়ার পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রথমে ধামসা-মাদল বাজিয়ে মিছিল গ্রাম পরিক্রমা করে। এই এলাকার মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতীদের সংবর্ধনা জানানো হয়। আয়োজক সংগঠনের সম্পাদক সঞ্জয় হেমব্রম বলেন, “এক সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে জল, জঙ্গল, জমির অধিকারের জন্য লড়াই করেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা। সরকারের পক্ষ থেকে সেই লড়াইকে সম্মান জানানো হলেও জনজাতি সম্প্রদায়ের জমির অধিকার কেড়ে নিয়ে বেসরকারি সংস্থার হাতে দেওয়া হচ্ছে।” রানিসায়র মোড়ে জনজাতি সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শোভাযাত্রার পরে সিধো-কানহোর মূর্তিতে মালা দেওয়া হয়।
দুর্গাপুর স্টেশন বাজার সংলগ্ন এলাকায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে দিনটি উদ্যাপন করা হয়। ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ (শিক্ষা) বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই বিধায়ক দুর্গাপুর পূর্বের চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পশ্চিমের লক্ষ্মণ ঘোড়ুই প্রমুখ। সিধো-কানহোর মূর্তিতে মালা দিয়ে তাঁদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল থেকে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চন্দ্রশেখর জেলা পরিষদের উদ্যোগে সেখানে আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য একটি হস্টেল গড়ে তোলার আর্জি জানান। এ দিন সিধো-কানহো ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলাশাসক (পশ্চিম বর্ধমান) এস পোন্নমবলম এস, পুরসভার কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম প্রমুখ।
নিয়ামতপুরের লছিপুর ব্রহ্মচারী স্থানে দু’দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। মঙ্গলবার, প্রথম দিন ব্রহ্মচারী স্থান থেকে ধামসা-মাদল বাজিয়ে পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি জিটি রোডের পাশে সানকানালিতে সিধো-কানহোর মূর্তিতে মালা দিয়ে হুল দিবসের সূচনা হয়। এর পর নিয়ামতপুর-সিতারামপুর এলাকা পরিক্রমা করে পদযাত্রা। নিয়ামতপুর ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মিহিরকুমার দে, স্থানীয় বিজেপি নেতা ঝন্টু সেন প্রমুখ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)