ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করার অভিযোগ তুলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যেরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভায় সরব হলেন। এলাকার কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডারের বিরুদ্ধে থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করার পরেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে তাঁরা অভিযোগ তোলেন। সভাস্থলে তাঁরা প্ল্যাকার্ড হাতে উঠে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে।
হুল দিবস উপলক্ষে রাজ্য স্তরের অনুষ্ঠানে মুকুটমণিপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় প্ল্যাকার্ড হাতে এসেছিলেন রানিবাঁধের অম্বিকানগর পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ, ওই পঞ্চায়েতের কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএসপি) মল্লিকা কর্মকার তাঁদের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাঁদের দাবি, ওই মহিলা তাঁদের ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে সাহায্য করতেন। তিনি ওই মহিলাদের নাম করে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতেন। কিন্তু সেই টাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতেন। মহিলাদের জানাতেন, তিনিই ঋণ ও সুদ ব্যাঙ্কে জমা করবেন। বিনিময়ে ওই মহিলাদের কিছু টাকা দিয়ে দেবেন।
বাড়াবন গ্রামের বাসিন্দা চিনু সিং দাবি করেন, ‘‘ভুল বুঝিয়ে আমার দু’লক্ষ টাকার ঋণের টাকা নিয়ে নিয়েছেন মল্লিকা। থানায় অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’’ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৫০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ঋণের অর্থ বিভিন্ন অজুহাতে হাতিয়ে নেন ওই মহিলা। বর্তমানে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণের কিস্তি কাটা শুরু হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। অভিযুক্ত মল্লিকা কর্মকার অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘থানায় আমাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। টাকা ফেরতের জন্য ১৫ দিন সময় চেয়েছি।’’ সূত্রের দাবি, তাঁকে কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর আসার আগে প্ল্যাকার্ড হাতে সভাস্থলে এসেছিলেন খাতড়ার ব্লক লেভেল ট্রেনাররাও (বিএলটি)। তাঁদের দাবি, ২০১৬ সাল থেকে আনন্দধারা প্রকল্পে কাজ করলেও আজও স্থায়ীকরণ, পরিচয়পত্র দেওয়া, নিয়মিত কাজ এবং মাসিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা বেতনের দাবি পূরণ হয়নি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আবেদন জানান তাঁরা।
খাতড়া মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘দাবিগুলি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)