E-Paper

তৃণমূলের দুর্দিনে জেলায় শক্তি বাড়াচ্ছে বিএমএস

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, দক্ষ ও অদক্ষ—দু’ক্ষেত্রেরই শ্রমিকেরা বরাবর কোনও শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠনের আওতায় থাকতে চান।

শুভ্রপ্রকাশ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০১:৫০

—প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সুবাদেই সিপিএমের শ্রমিক সংগঠনকে সরিয়ে পুরুলিয়ার কারখানাগুলিতে সংগঠন পোক্ত করেছিল তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন, আইএনটিটিইউসি। রাজ্যে পালাবদলের পরে কার্যত ঝাঁপ বন্ধ সেই সংগঠনের। এই পরিস্থিতিতে জেলায় সংগঠন দ্রুত গোছানোর কাজ শুরু করেছে আরএসএস প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন, ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ বা বিএমএস। জেলায় অতীতে সেই অর্থে কোনও প্রভাব না থাকলেও বর্তমানে বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র—তিন ধরনের শিল্পক্ষেত্রেই তাদের গতিবিধি চোখে পড়ছে। অন শ্রমিক সংগঠন থেকেও বিএমএসে যোগ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, দক্ষ ও অদক্ষ—দু’ক্ষেত্রেরই শ্রমিকেরা বরাবর কোনও শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠনের আওতায় থাকতে চান। কারণ, কারখানা কর্তৃপক্ষর সঙ্গে তাঁদের দাবি-দাওয়া আদায়ে ভরসাস্থল হয়ে ওঠে শ্রমিক সংগঠনগুলি। রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের বিধ্বস্ত অবস্থায় সেই শূন্যস্থান পূরণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আরএসএস-পন্থী বিএমএস।

সূত্রের খবর, গত বছরে পুজোর পরে জেলায় পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি তৈরি করে বিএমএস। জেলার সভাপতি হন সৃষ্টিধর সরকার। মোট ৩৮ জনের জেলা কমিটি তৈরি হয়েছে। পরে আট মাসের মধ্যেই পুরুলিয়ায় ইস্পাত, বিদ্যুতের মতো সংগঠিত এবং বিড়িশিল্পের মতো অসংগঠিত ক্ষেত্র মিলিয়ে ২১টি জায়গায় কমিটি তৈরি করে ফেলেছে তারা। যার বেশির ভাগই হয়েছে রাজ্যে পালাবদলের পরে। তা ছাড়া, ইতিমধ্যেই আড়শা, নিতুড়িয়া, সাঁতুড়ি-সহ আরও কয়েকটি ব্লকেও বিএমএসের কমিটি তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সব ব্লকেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি হবে বলে দাবি সংগঠনের।

ঘটনা হল, তৃণমূলের ছন্নছাড়া অবস্থা তৈরির পরে জেলার কারখানাগুলির শ্রমিকদের একাংশ নিজেরাই বিএমএসের সঙ্গে যোগোযাগ শুরু করেছেন। তাঁদের আবার বড় অংশ অতীতে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তৃণমূলের নেতাদের জন্য বিজেপি দরজা বন্ধ রাখলেও ওই শ্রমিকদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত করতে আপত্তি নেই বিএমএস নেতৃত্বের।

সভাপতি সৃষ্টিধর বলেন, ‘‘সকলেই শ্রমিক। তাই তাঁদের স্বার্থরক্ষা আমাদের সংগঠনের মূল উদ্দেশ্যে। তবে তৃণমূল বা অন্য কোনও দলের দুর্নীতিপরায়ণ শ্রমিক নেতাদের ঠাঁই দেওয়া হবে না। যাঁরা সংগঠনে জুড়তে চাইছেন, তাঁদের সম্পর্কে বিশদে খোঁজ নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।” তবে অন্য সংগঠন ভাঙিয়ে নিজেদের সংগঠন পোক্ত করার পক্ষপাতী নন বলেই দাবি তাঁর। সৃষ্টিধরের কথায়, ‘‘নতুন যাঁরা আসছেন, তাঁদের সংগঠনের নীতি-আদর্শ শেখানো হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য কখনও অন্য সংগঠনগুলি নির্মূল করে দেওয়া নয়। তাঁরা শ্রমিকদের পাশে না থাকলে এমনিতেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।”

আপাতত কারখানাগুলিতে শ্রমিকদের স্বার্থ-বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কর্মসূচি শুরু করেছেন বলে জানান বিএমএস নেতৃত্ব। সৃষ্টিধর জানান, কেন্দ্রীয় সরকার দক্ষ, অর্ধ দক্ষ, উচ্চ দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ধার্য করেছেন। কারখানাগুলিকে সেই নীতি মেনে মজুরি দেওয়ানো তাঁদের প্রাথমিক কাজ। এ দিকে, বিএমএসের শক্তিবৃদ্ধি ও কারখানাগুলির শ্রমিকদের বিএমএসের প্রতি আগ্রহী হওয়ার ঘটনা দেখেও তাঁরা কিছু করতে পারছেন না, মানছেন তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের শ্রমিক নেতারাও। কয়েক জনের আক্ষেপ, ‘‘দল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় শ্রমিক সংগঠনকে রক্ষা করা একপ্রকার অসম্ভব হয়েই দাঁড়িয়েছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

RSS BMS

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy