রাস্তার পাশ থেকে অবৈধ দখলদারি হটাতে মাইকে প্রচার শুরু করেছে সোনামুখী পুরসভা। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, যানজট এড়াতে রাস্তার দু’পাশে বসে কিছু বেচাকেনাও করা যাবে না। বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ সোনামুখী পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই শহর দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে পুরসভা।
চৌমাথা, রথতলা, থানাগোড়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকে ঘোষণা শুরু হয়েছে। জানানো হয়েছে, সরকারি জায়গা দখল করে সোনামুখী শহরের বিভিন্ন জায়গায় দোকান চলছে। সমীক্ষা করে ওই সব দোকান সরাতেও নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেইমহকুমাশাসক সরেজমিনে গিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছেন।তারপরেই পুরসভার এগজ়িকিউটিভ অফিসারকে পদক্ষেপ করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। দখল মুক্ত করতে প্রয়োজনে অবৈধ নির্মাণ ভাঙবে পুরসভা।
ইতিমধ্যেই জেলায় পুনর্বাসন না দিয়ে হকার উচ্ছেদের বিরোধিতায় নেমেছে সিপিএম। সোনামুখীর সিপিএম সমর্থিত নির্দল পুরপ্রতিনিধি সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল পরিকল্পনা না করেই রাস্তার ধারে অবৈধ দখলদারদের বসিয়েছিল। আর বিজেপি একই ভাবে পরিকল্পনা বা পুনর্বাসন ছাড়াই এখন হকারদের উচ্ছেদে নেমেছে। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য দোকানঘর ভাঙতে হলে আগে ব্যবসায়ীদের অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।”
এ দিকে সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালের জায়গা দখল করে একের পরে এক নির্মাণ চলছে বলে অভিযোগ জেলা স্বাস্থ্য দফতরের। অভিযোগ, তৃণমূল নেতৃত্বের মদতে অনেকেই হাসপাতালের জায়গায় ব্যক্তিগত নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়েও পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মহকুমাশাসক। পুরসভার সামনের একাধিক দোকানও জবরদখল করে চলছে বলে অভিযোগ।
পুর-আবাসন থেকে সে ভাবে আয় হচ্ছে না বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে নতুন করে সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে বিলি বন্টনের দাবিতুলেছে বিজেপি।
সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের সমবায়, বন ও পরিবেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি বলেন, “হাসপাতাল হল মানুষের বাঁচার জায়গা। তাই সেখানে উন্নয়ন করতে হলে আগে জবরদখল মুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে যাঁরা দখল করে আছেন, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া উচিত। না হলে প্রশাসনিক ভাবেই হাসপাতালকে বাঁচানো হবে। রাস্তা দখল করে ব্যবসা করবেন আর রোগীনিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স হাসপাতালে ঢুকতে পারবে না, তা হবে না। সোনামুখী শহরের হাল ফেরাতে হলে সকলের সাহায্য দরকার।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)