E-Paper

উন্নয়নেই সমর্থনের ঋণ শোধের বার্তা

কেন্দ্রের প্রকল্পের মাধ্যমে ক্লাসরুম তৈরি, ছাত্রাবাসের সংস্কার, স্কুলগুলিতে বহুমুখী ইন্ডোর স্টেডিয়াম স্থাপনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মানুষ-প্রাণী সংঘাত কমিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ চালুর প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান।

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০১:৪৩
মুকুটমণিপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুকুটমণিপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: অভিজিৎ সিংহ।

বিধানসভা ভোটে আদিবাসীদের বিপুল সমর্থনের ‘ঋণ’ উন্নয়নের মাধ্যমে পরিশোধের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিলল আদিবাসী উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি। মঙ্গলবার খাতড়ার মুকুটমণিপুরে হুল দিবস পালনের রাজ্য স্তরের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে প্রাক্তন ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের এক সঙ্গে বসিয়ে দলকে একজোট হয়ে চলার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। বাদ গেল না গত সরকারের নানা নীতির সমালোচনা।

রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জেলায় এটিই ছিল শুভেন্দুর প্রথম কর্মসূচি। রাজনৈতিক থেকে প্রশাসনিক, সব মহলের নজর ছিল অনুষ্ঠানে। এ দিন তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল সরকারকে ব্রিটিশ সরকারের চেয়েও বেশি অত্যাচারী বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এখন ১৭ জন আদিবাসী বিধায়ক। আর সকলেই ভারতীয় জনতা পার্টির। আপনারা দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন। এ বারে উন্নয়ন দিয়ে আপনাদের ঋণ আমরা শোধ করব।” আদিবাসী, মূলবাসীদের কল্যাণে, তাঁদের উন্নয়ন এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হবে বলে দাবি তাঁর।

এ দিন কেন্দ্রের প্রকল্পের মাধ্যমে ক্লাসরুম তৈরি, ছাত্রাবাসের সংস্কার, স্কুলগুলিতে বহুমুখী ইন্ডোর স্টেডিয়াম স্থাপনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মানুষ-প্রাণী সংঘাত কমিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ চালুর প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পিএম জনমন প্রকল্পের আওতায় প্রাচীন যে আদিবাসী গোষ্ঠী—লোধা, বিরহোড়, টোটোরা রয়েছেন, তাঁদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা-সহ অনেকগুলি কর্মসূচি চালু হয়েছে। আগামী অগস্ট থেকে সুফল মিলবে।”

আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ‘জল জীবন মিশন’-এ পানীয় জল দেওয়ায় জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, “জয় জোহারে ভাতার পরিমাণ আরও ৫০০ টাকা করে আপাতত আমরা বাড়িয়েছি। পরবর্তী কালে এ বিষয়ে আমরা আরও উদ্যোগী হব।” আদিবাসী এলাকায় বিশেষ উন্নয়নে ৩৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ, আদিবাসী হস্টেলের আবাসিকদের খাদ্য-ভাতা ১৫০০ টাকা বাড়ানোর কথা শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি, “হাজার হাজার ভুয়ো এসটি, এসটি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রী ও দফতর প্রতিটি ভুয়ো শংসাপত্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। দোষী সাব্যস্ত হলে যিনি শংসাপত্র দিয়েছেন আর নিয়েছেন, দু’জনকেই জেলে পাঠানো হবে। আদিবাসীদের শংসাপত্র দু’নম্বরি করতে এই সরকার দেবে না।”

পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের মাধ্যমে জঙ্গলমহলের ৭৫টি ব্লকে উন্নত মানের স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জলের ব্যবস্থা, কমিউনিটি হল তৈরি-সহ বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১২০০ কোটি টাকা। খাতড়া মহকুমায় উন্নত হাসপাতালের দাবি দীর্ঘদিনের। তা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “জেলাশাসক অনেকগুলো জায়গা দেখে রেখেছেন। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের টাকায় ভবন বানিয়ে দেব এবং এলাকায় একটি ভাল হাসপাতাল তৈরি করে দেব।” মুকুটমণিপুরকে একটি আদর্শ পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলাতেও জোর দেন তিনি।

এ দিন মঞ্চে বিজেপির একাধিক সাংসদ, বিধায়কদের পাশাপাশি ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকারও। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, দলের প্রাক্তন ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের এক মঞ্চে রেখে দলকে জোটবদ্ধ হওয়ার বার্তাই দিয়েছেন শুভেন্দু। যদিও সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অভয় মুখোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, “পশুহাট বন্ধ করে গ্রামীণ অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়ে মুখে আদিবাসী এলাকার উন্নয়নের কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির কথা ও কাজ যে পরস্পর-বিরোধী, তা রাজ্যের মানুষ টের পেয়ে গিয়েছেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Development West Bengal government

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy