E-Paper

মিলছে না মাটি, রথের আগে দুশ্চিন্তায় প্রতিমা শিল্পীরা

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির প্রথম পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বেলেমাটির। সেই মাটির জোগান কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরে প্রয়োজন হয় চিটে মাটি, যা মূলত সুন্দরবন ও গোসাবা অঞ্চল থেকে আসে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৩:২২

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

দুর্গাপুজোর চার-পাঁচ মাস আগে থেকে কাঠামো তৈরি শুরু হয় কুমোরটুলিতে। চলতে থাকে প্রতিমা গড়ার প্রস্তুতি। কিন্তু এ বার উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বর্ধমান শহরের মৃৎশিল্পীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, কাঠামো হলেও মাটির অভাবে এগোতে পারছে না কাজ। দুশ্চিন্তায় তাঁরা।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির প্রথম পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বেলেমাটির। সেই মাটির জোগান কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরে প্রয়োজন হয় চিটে মাটি, যা মূলত সুন্দরবন ও গোসাবা অঞ্চল থেকে আসে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকার মাটিও প্রতিমা তৈরিকে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এ বছর সেই সব উৎস থেকেই মাটির সরবরাহ কমে গিয়েছে বলে দাবি তাঁদের। সরকার পরিবর্তনের পরে মাটি কাটার উপরে নজরদারি ও বিধিনিষেধ বেড়েছে বলে এই বিপত্তি, অনুমান শিল্পীদের একাংশের। অতীতে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠত। সেই প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক কড়াকড়ি বেড়েছে। তার জেরেই বাজারে মাটির জোগান কমে গিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনও বক্তব্যপাওয়া যায়নি।

বর্ধমান শহরের শ্যামলাল এলাকার মৃৎশিল্পী সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গত বছর ট্রাক্টর-পিছু আড়াই হাজার টাকা দিয়ে বেলেমাটি কিনেছি। এ বার চার হাজার টাকা দিতেও রাজি আছি, কিন্তু মাটি নেই।” একই সুর বর্ধমানের অন্যতম মৃৎশিল্পী সিদ্ধার্থ পালের গলাতেও। তাঁর কথায়, “আগে জেলা থেকে বড় ট্রলার বা ট্রাকে মাটি আসত। এ বার ট্রাকই আসছে না। প্রতিমার কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।”

মৃৎশিল্পীদের দাবি, এখনই মাটি পাওয়া না গেলে আগামী কয়েক মাসে চাপ আরও বাড়বে। সাধারণত বিশ্বকর্মা পুজোর আগে থেকে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ গতি পায়। তার আগে পর্যাপ্ত মাটি মজুত না হলে প্রতিমা তৈরির সময়সূচি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। বিশেষ করে চিন্তা বড় পুজো কমিটি ও একাধিক প্রতিমার বরাত নেওয়া শিল্পীদের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Clay Idols Artists and artisans Artists

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy