E-Paper

জবরদখলে এত দিন কেন চুপ, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি জমিতে বেআইনি সব নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হবে। রাজ্যের নানা প্রান্তের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের জেলাতেও কাঁথি থেকে কোলাঘাট, দিঘা থেকে হলদিয়া, চৈতন্যপুর থেকে নন্দীগ্রাম— গত দু’মাসে উচ্ছেদ অভিযান চলেছে।

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৪:০৫

— প্রতীকী চিত্র।

কেউ কেউ তিন-চার দশক সরকারি জমিতে দোকান চালাচ্ছেন। কেউ তারও আগে ফুটপাতে দোকান বা বাড়ি করেছেন। রাজ্যে সরকার বদলের পরে বুলডোজ়ারের ধাক্কায় সে সব গুঁড়িয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি জমি বেদখল নিয়ে এত দিন কেন নীরব ছিল প্রশাসন থেকে রেল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি জমিতে বেআইনি সব নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হবে। রাজ্যের নানা প্রান্তের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের জেলাতেও কাঁথি থেকে কোলাঘাট, দিঘা থেকে হলদিয়া, চৈতন্যপুর থেকে নন্দীগ্রাম— গত দু’মাসে উচ্ছেদ অভিযান চলেছে। কেউ হারিয়েছেন বাসস্থান, কেউ রুটি- রুজি। লড়াইও চলছে। কাঁথি শহরে মহকুমাশাসকের অফিসের সামনে থেকে জুনপুট বাসস্ট্যান্ড মোড় পর্যন্ত রাস্তার ধারে সরকারি জমি দখল করে মাথা তোলা অজস্র দোকান ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন।পাল্টা হাই কোর্টে গিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, ‘‘সরকার থেকেই জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রাজস্ব দিয়েছি। তাহলে কেন ভেঙে ফেলা হবে?’’ পাঁশকুড়া এবং চৈতন্যপুরের অনেক ব্যবসায়ীরও দাবি করছেন, ‘‘জমির নথি রয়েছে। যিনি আগে জমি ব্যবহার করতেন, তাঁর থেকেই নথি পেয়েছি। তবু দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’’পুনর্বাসন ছাড়া কেন উচ্ছেদ অভিযান, প্রশ্ন তুলেছে ‘সারা বাংলা হকার্স ইউনিয়ন’। একই সঙ্গে সংগঠনের জেলা কমিটির উপদেষ্টা নারায়ণচন্দ্র নায়েকের প্রশ্ন, ‘‘প্রশাসন এবং তৎকালীন শাসক নেতাদের মদতেই এই সব দোকান এবং বাসস্থান গড়ে উঠেছিল। তখন কেন বাধা দেওয়া হয়নি?’’ সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য তথা দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা পরিতোষ পট্টনায়কও বলেন, ‘‘২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার হকারদের জন্য আলাদা আইন পাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও সরকারি পদক্ষেপের জন্য হকার উচ্ছেদ হলে তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিতে হবে।’’ তবে এ ক্ষেত্রে বৈধ-অবৈধর ভাগাভাগি রয়েছে। চৈতন্যপুর থেকে মেচেদা পর্যন্ত রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণ হচ্ছে। সেখানে অবশ্য সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে নিজেরাই সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। কিন্তু, পাঁশকুড়া-সহ জেলার বিভিন্ন স্টেশনগুলিতে যেভাবে হকার উচ্ছেদ হচ্ছে তাতে রেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট দোকানদারেরা। দক্ষিণ পূর্ব রেলের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘সাঁতরাগাছি থেকে খড়গপুর পর্যন্ত তৃতীয় লাইনের কাজ শুরু হবে। তাই রেলের জমি দখলমুক্ত করা হচ্ছে।’’ পূর্ত দফতরের তরফেও জানানো হচ্ছে, জেলায় নতুন নতুন সরকারি প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। তাই সরকারি জমি দখলমুক্ত হচ্ছে। হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ বিজলির মতে, ‘‘আগে শাসক দলের চাপে প্রশাসনিক আধিকারিকরা সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাজ করতে ব্যর্থ হতেন। সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে।’’

(চলবে)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Land encroachment Government Land Encroachment Bulldozer Hawker Eviction

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy