E-Paper

অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না, জেএনএমে মন্ত্রী

কল্যাণী জেএনএমে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে গেলে প্রায় প্রতি পদে পদে রোগীর আত্মীয়দের টাকা গুনতে হয় আয়াদের। বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবস্থাই যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সুদেব দাস

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৩:৪৪

— প্রতীকী চিত্র।

আচমকাই কল্যাণী জেএনএম হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের পরিষেবা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। শনিবার হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেই সময়ই ফের সামনে আসে বহুদিনের চর্চিত ‘আয়া রাজ’-এর অভিযোগ। রোগীর পরিজনদের একাংশ সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানান, হাসপাতালে নানা পরিষেবা পেতে গেলে আয়াদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।

কল্যাণী জেএনএমে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে গেলে প্রায় প্রতি পদে পদে রোগীর আত্মীয়দের টাকা গুনতে হয় আয়াদের। বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবস্থাই যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যে কাজ নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের করার কথা, সেই কাজের জন্য রোগীর পরিবারের সদস্যদের কেন আলাদা করে টাকা দিতে হবে? রোগীর আত্মীয়দের বক্তব্য, বিভিন্ন পরিষেবার জন্য কার্যত নির্দিষ্ট ‘দর’ চালু রয়েছে। রাতে রোগী দেখাশোনার জন্য ২০০ টাকা, ডাইপার খোলা বা পরানোর জন্য ৫০ টাকা করে, সিলিং ফ্যানের নিচে শয্যা পেতে ৫০ টাকা, সিটি স্ক্যান করাতে নিয়ে যেতে ৫০ টাকা, ছুটির সময় ১০০ টাকা।

প্রসূতিদের ছুটির সময়ও টাকা নিয়ে দর কষাকষির অভিযোগ রয়েছে। এমনও অভিযোগ, রোগীর সঙ্গে ব্যক্তিগত আয়া না রাখলে গভীর রাতে স্যালাইন শেষ হয়ে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে সকাল পর্যন্ত নতুন স্যালাইন মেলে না। কাগজে-কলমে হাসপাতাল ‘আয়া-মুক্ত’ হলেও বাস্তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত বহু ক্ষেত্রেই আয়াদের প্রভাব স্পষ্ট বলে অভিযোগ। ইসিজি থেকে রক্ত পরীক্ষা— নানা পরিষেবায় তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর আত্মীয়দের একাংশ। অভিযোগ শোনার পরে আয়াদের সঙ্গেও কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সব কাজ নিয়ম মেনেই করতে হবে। রোগী বা তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা চলবে না।

শুধু পরিষেবা নয়, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতালকে কী ভাবে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যায় এবং বিড়ালের উপদ্রব কমানো যায়, তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুমনা সরকার বলেন, “হাসপাতাল হল মন্দির। অসুস্থ মানুষ এখানে আসবেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আশায়। তাই এখানে কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি বার্তা দিয়ে বলেন, “বিগত দিনের মতো ‘দাদারা ফোন করলে তবে বেড পাবে’— এই কালচারে আমি বিশ্বাসী নই। আমি সেই কালচারে বিশ্বাসী, যে কালচারটা একটা সাধারণ মানুষকে ঠিকমতো পরিষেবা দেবে। মানবতাই আসল কালচার। আমি সেই মানবতার কালচারটাকেই প্রতিটি হাসপাতালে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal health department JNM Hospital

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy