Advertisement
E-Paper

অনলাইন জুয়া খেলে ধার, শোধ করতে মাসির ঘরে চুরির পরিকল্পনা, বোন দেখে ফেলায় খুন! বেলডাঙাকাণ্ডে রহস্যভেদ

শনিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার মোহলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাবেরী নামে এক নাবালিকাকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। সেই ঘটনায় গ্রেফতার তার মাসতুতো দাদা-সহ তিন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ২২:৫৩

— প্রতীকী চিত্র।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় নাবালিকা খুনের রহস্যের কিনারা করল পুলিশ। গ্রেফতার আরও এক জন। কেন বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মাসির মেয়েকে খুন করলেন অভিযুক্ত, তার রহস্যভেদ হল। জানা গিয়েছে, পুলিশি জেরায় অভিযুক্তেরা খুনের কথা স্বীকার করেছেন। জানিয়েছেন, অনলাইনে জুয়া খেলতে গিয়ে অনেক ধার হয়ে গিয়েছিল। ধারের টাকা শোধ করতে মাসির ঘর থেকে সোনা এবং নগদ হাতানোর পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনা মতো দাদু-দিদিমাকে ব্যাঙ্কে পাঠিয়ে ফাঁকা বা়ড়ির সুযোগে বন্ধুকে নিয়ে মাসির ঘরে যান তিনি। সূত্রের খবর, টাকা, সোনা হাতাতে দেখে ফেলায় বোনকে খুন করতে বাধ্য হন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন অভিযুক্ত গৌরব নন্দী।

শনিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার মোহলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাবেরী নামে এক নাবালিকাকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। ঘটনাটি যখন ঘটে তখন বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তার আগেই পরিকল্পনা করে দাদু-দিদিমাকে ব্যাঙ্কে পাঠিয়েছিলেন গৌরব। তার পরেই মামার বাড়ির হানা দেন তিনি। সঙ্গে নিয়েছিলেন দুই বন্ধু প্রিয়ম পাল এবং নিলাদ্রী দাসকে।

তদন্তকারীদের দাবি, গৌরব অনলাইন গেমে আসক্ত ছিলেন। ওই গেম খেলতে গিয়ে বিপুল দেনা হয়েছিল তাঁর। দেনার টাকা শোধ করার জন্য প্রিয়ম এবং নিলাদ্রীর সঙ্গে মিলেই মাসির ঘর থেকে সোনা, গয়না লুটের পরিকল্পনা করেছিলেন গৌরব। ঘটনার দিন নাবালিকার মা বহরমপুর গিয়েছিলেন। ওই দিন দুপুরে দাদুর ফোনে অন্য একটা নম্বর থেকে ফোন করে কণ্ঠস্বর পাল্টে গৌরব জানান, কোনও একটি গেমে জিতেছেন প্রৌঢ়। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়েছে। ওই ফোন পেয়ে ঘাবড়ে যান প্রৌঢ়। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে যে ব্যাঙ্কে তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানে খোঁজখবর করতে যান।

গৌরবের ধারণা ছিল বোন কাবেরীকে বাড়িতে একা রেখে যাবেন না তাঁর দাদু-দিদিমা। বাড়ি পুরো ফাঁকা হয়ে যাবে। সেই সুযোগে ঘরে ঢুকে সোনা, টাকা হাতাবেন। পরিকল্পনামতো দাদু-দিদিমা ব্যাঙ্কে যেতেই বাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে ঢোকেন গৌরব। মাসির ঘরের আলমারিতে নগদ ও সোনার খোঁজ করতে থাকেন। সেই অবস্থায় তিনজনকে দেখে চিনে ফেলে কাবেরী। জোর করে চুরির চেষ্টা করলে কাবেরী হুমকি দেয়, বিষয়টা দাদু-দিদিমাকে জানিয়ে দেবে। পরিককল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে দেখে তখনই ধারালো অস্ত্র দিয়ে বোনকে কোপান গৌরব। তার পরে আলমারি থেকে টাকা, সোনা নিয়ে পালান তিন অভিযুক্ত।

বেলডাঙার পুলিশ আধিকারিক আনন্দজিৎ হোড় জানান, ইতিমধ্যে এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দু’জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শেষ যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁকেও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলবে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, সোনা ও নগদ টাকা চুরিতে বাধা পেয়ে এই খুন। তবে অন্য দিকও খতিয়ে দেখা হবে। নাবালিকার মায়ের কথায়, ‘‘আমার নিজের বোনের ছেলে এমনটা করেছে, মানতেও পারছি না, বিশ্বাস করতেও পারছি না। আত্মীয় বলে যেন ওর সাজা কম না হয়, আমি চাই ওর ফাঁসি হোক।’’

Murder Case Beldanga police investigation

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy