E-Paper

কেউ পরিস্থিতি বুঝছেন, কেউ ফিরেছেন পেশায়

অতীতে জেলায় দলের সভাপতি-সহ নানা পদে দায়িত্ব সামলেছেন ভি শিবদাসন (দাশু)।

নীলোৎপল রায়চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:৫৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

যাঁকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব, তিনি তা নিতে অস্বীকার করেছেন। উল্টে, তিনি দলের বিদ্রোহী অংশের সঙ্গে যোগ রাখছেন বলে খবর। অন্য দুই নেতাকে সেই পদ দিতে চাইলে, তাঁরাও আপাতত এই ‘গুরুদায়িত্ব’ নিতে অস্বীকার করেছেন বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। দলের একাধিক নেতা আবার এই মুহূর্তে দলীয় রাজনীতি নিয়ে মাথা না ঘামানোর কথাও জানিয়েছেন। ফলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম বর্ধমানে নেতৃত্বে কারা থাকছেন, সে নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে দলের কর্মীদের মধ্যে।

অতীতে জেলায় দলের সভাপতি-সহ নানা পদে দায়িত্ব সামলেছেন ভি শিবদাসন (দাশু)। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, প্রাক্তন জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে এ বারও সে পদে থাকার কথা জানিয়েছিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু তিনি সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেখা করেছেন দলের বিদ্রোহীদের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে, শিবদাসনকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে, তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন বলে দাবি দলের একটি সূত্রের। যদিও শিবদাসন এমন কোনও প্রস্তাবের কথা মানতে চাননি। তবে তিনি বলেন, ‘‘দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে ছিলাম, তাঁর সঙ্গেই থাকব।‌’’

অতীতে দলের ছাত্র সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা নেতা অশোক রুদ্র জানান, কালীঘাট থেকে তাঁকে ফোন করে জেলা সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।‌ তবে তাঁর দাবি, ‘‘২০২১ সাল থেকে দল অভিষেক‌ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে চলে গিয়েছে। দিদিকে শ্রদ্ধা করি। পাঁচ বছর নানা ভাবে উপেক্ষা করে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে আমাকে।’’ তাঁর ক্ষোভ, ২০২১ সালে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে সায়নী ঘোষের হারের জন্য তাঁকে দায়ী করা হয়েছিল। সেই সায়নী এখন বিদ্রোহী শিবিরে চলে গিয়েছেন। অশোক বলেন, ‘‘এই অবস্থায় কী করব এখনই বলতে পারছি না। রাজনীতি থেকে সরে যাব না, এটুকু বলতে পারি। জেলা সভাপতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও, পারিবারিক কারণে দায়িত্ব নিতে পারব নাবলে জানিয়েছি।’’

কুলটির তিন বারের বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচনে তাঁকে দলের কোনও প্রভাবশালীর অনুগামীরা অল্প ভোটে হারিয়ে দেয়। তার পরে দলের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর আর্জি, যাঁদের ইশারায় হারানো হয়েছিল, দল তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিক। উজ্জ্বলের বক্তব্য, ‘‘তৃণমূলের কোনও ভাগই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। শীঘ্রই দলের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে‌ পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।’’ আর এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবার বক্তব্য, ‘‘দল ক্ষমতা হারানোর পরে রাজনীতির আঙিনায় চরম নৈতিক অবক্ষয়ের যে ছবি দেখছি, তার পরে রাজনীতিতে থাকার ইচ্ছে নেই। সমাজসেবার কাজ করে অবসর সময় কাটাতে চাই। আবার আইনজীবী পেশায় ফিরেছি।’’

আসানসোল পুরসভার এক জন বরো চেয়ারম্যান ও চার জন পুরপ্রতিনিধি ইস্তফা দিয়েছেন। অনেক পুরপ্রতিনিধিরই অভিযোগ, বিনা কারণে হেনস্থা হওয়ার ভয়ে জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই মানসিক চাপে রয়েছেন। আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো জেলা নেতৃত্বের কারও দেখা নেই। তাই সবাই পরিস্থিতির দিকেনজর রাখতে চাইছেন। বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান বাড়ছে। কালীঘাট তৃণমূল অনুমোদিত আইএনটিটিইউসি-র জেলা সভাপতি মলয় ঘটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর ভাই তথা আসানসোলের ডেপুটি মেয়র‌ অভিজিৎ ঘটক বলেন, ‘‘আসানসোল আদালতে ওকালতি করছি। এখনই আর কিছু বলার নেই।’’ দলের প্রাক্তন জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কী করব, সে নিয়ে এখনই কিছু ভাবছি না।‌’’আসানসোল দক্ষিণ শহর ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি পূর্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, ‘‘ছাত্রজীবন থেকে দিদির সঙ্গে আছি। কার্যত কোনও সম্মান পাইনি। তবে দিদির সঙ্গে যদি না থাকি, রাজনীতি ছেড়ে দেব।’’

প্রাক্তন জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ শুধু বলেন, ‘‘যা বলার, ঠিক সময়ে বলব।’’ দাশু বলেন, "নিয়মিত মানুষের সঙ্গে দেখা করছি। কাউন্সিলরদের একাংশ ভয় পাচ্ছে। অনেক কাউন্সিলর যোগাযোগ রাখছে। আমাকে সভাপতি হওয়ার কোন প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।‌ দিদির সঙ্গে ছিলাম।‌ দিদির সঙ্গেই থাকব।‌’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Raniganj

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy