Advertisement
E-Paper

গয়নার জন্য শাশুড়িকে খুন! গ্রেফতার বাড়ির ছোট বৌ, ভিন্‌রাজ্যের বন্ধুকেও পাকড়াও করল আসানসোলের পুলিশ

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে আসে, গলায় দড়ি বা অন্য কিছু জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছিল মহিলাকে। তদন্তে নেমে গ্রেফতার করা হয় মৃতার পুত্রবধূকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০৯

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম (এআই প্রণীত)।

শাশুড়িকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার বাড়ির ছোট বৌ। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হলেন বৌমার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে মহিলার রহস্যমৃত্যতে নয়া মোড়। শুক্রবার খুনে অভিযুক্ত দু’জনকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম রিয়া রায় এবং সমীর আলম। রিয়া আসানসোল উত্তর থানার বারাবনির লালগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁর ‘বন্ধু’ সমীর ঝাড়খণ্ডের ডালটনগঞ্জের বাসিন্দা। তবে সমীরকে আসানসোলের জিটি রোডের ভগৎ সিং মোড় এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতার করা হয়েছে রিয়াকে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জানুয়ারি। ওই রাতে মৌ রায় নামে এক মহিলাকে বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যেরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মহিলার দেহ আবার বাড়ি নিয়ে যায় পরিবার। হঠাৎ মৃতার পুত্র খেয়াল করেন, মায়ের গলায় ক্ষতচিহ্ন। গলায় একটি হার পরতেন তাঁর মা। সেটিও ছিল না। এর পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরের দিন আসানসোল জেলা হাসপাতালেই মহিলার দেহের ময়নাতদন্ত হয়।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে পুলিশ জানতে পারে, গলায় দড়ি বা অন্য কিছু জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছিল মহিলাকে। তদন্তে নেমে গ্রেফতার করা হয় মৌয়ের এক পুত্রবধূকে। তবে তার আগে পাকড়াও হন এক যুবক। আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস বলেন, ‘‘ওই ঘটনার ১৩ দিন আগে গত ৩ জানুয়ারি মৃত মৌ তাঁর পুত্রবধূ রিয়া রায়ের বিরুদ্ধে আসানসোল উত্তর থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেছিলেন। আবার মৌয়ের মৃত্যুতে তাঁর ভাই খুনের মামলা রুজু করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তাতে জানা যায়, রিয়ার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছেন। তাঁর নাম সমীর। খুনের সঙ্গে ওই যুবক জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।’’

বৃহস্পতিবার রাতে সমীরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি খুনের কথা স্বীকার করে নেন বলে পুলিশের দাবি। পাশাপাশিই রিয়ার নামও তিনি-ই জানান। তার ভিত্তিতে শুক্রবার মৃতার বৌমাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দু’জনকে আসানসোল আদালতে হাজির করনো হলে তাঁদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ডিসিপি (সেন্ট্রাল) জানিয়েছেন, ডালটনগঞ্জের ওই যুবক আসানসোলে একটি হোটেলে থাকতেন। ওই হোটেলের ঘর থেকে মৃতার গয়নাও উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত জানান, রিয়ার সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। সেখান থেকে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। কিন্তু শুধুই গয়নার জন্য খুন না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Asansol Murder Case Crime
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy