Advertisement
E-Paper

ভুয়ো দমকল অফিসার পাকড়াও মেমারিতে

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ২৩:১৮

—প্রতীকী ছবি।

ভুয়ো দমকল অফিসার পাকড়াও হল পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে। ধৃতদের মধ্যে নাম শিবশঙ্কর প্রজাপতি, দীপক প্রসাদ ওরফে সোনু ও পূজা সাউ। উত্তরপ্রদেশের ভাদোই থানার বাহারিয়ায় শিবশঙ্করের বাড়ি। বাকিদের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরের লালকুঠি এলাকায়। ধৃতদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি ও ন’টি অগ্নিনির্বাপক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। গাড়িটির কাচে ‘ফায়ার’ লেখা ছিল। ধৃত তিন জনকে বুধবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ওসির অনুমতি ছাড়া মেমারি থানা এলাকা ত্যাগ না করার শর্তে পূজার জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম চন্দা হাসমত। বাকিদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ২২ জানুয়ারি ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন বিচারক।

পুলিশ জানিয়েছে, মেমারি থানার তাতারপুরে জিটি রোডের পাশে একটি লোহার স্ক্র্যাপের দোকান রয়েছে শেখ আব্দুল সাত্তারের। মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ ফায়ার লেখা একটি গাড়িতে চেপে তিন জন তাঁর দোকানে যান। দমকল অফিসার পরিচয় দিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় দোকানে ত্রুটি রয়েছে বলে জানান তাঁরা। তার জন্য তাঁদের কাছ থেকে অগ্নিনির্বাপক নেওয়ার জন্য বলা হয় তাঁকে। তিনি নিতে না চাওয়ায় তাঁর কাছ থেকে দোকানের বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চান তাঁরা। কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকলে মোটা টাকা জরিমানা করা হবে বলে হুমকিও দেন। তাঁদের গতিবিধি দেখে সাত্তারের সন্দেহ হয়। তিনি বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান। এলাকার লোকজন গিয়ে তাঁদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চায়। তাঁরা তা দেখাতে পারেননি।

ধৃত ৩ জনের গলায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ফায়ার প্রোটেকশন’ লেখা আই কার্ডও ঝোলানো ছিল। স্থানীয় মানুষদের অগ্নিনির্বাপক বিভিন্ন সামগ্রিক বিক্রি করার পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে গিয়ে তাঁদের ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স দেখতে চান। না থাকলে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে বলে ভয় দেখান। স্থানীয়েরা তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে ওই মহিলা নিজেকে বিজেপির প্রাক্তন কাউন্সিলর বলে দাবি করেন। গোটা ঘটনাটি ভিডিয়ো করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। এর পরেই তাঁদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়। পরে সাত্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ গাড়িটি ও গাড়িতে থাকা অগ্নিনির্বাপক সামগ্রীও বাজেয়াপ্ত করে। মেমারি ফায়ার স্টেশনের ওসি সঞ্জয় কুমার দত্ত বলেন, ‘‘আমরা কারও কাছে এই ভাবে হুট করে যাই না। আমরা কোনও সচেতনতা প্রচার করতে গেলে চিঠি করে যাই। পাশাপাশি থানাতেও চিঠি করা হয়। এই ভাবে বাজারে অনেক দালান ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাতে ভাল অফিসারের বদনাম হচ্ছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy