সরকারি শিবিরে কখন ধান বিক্রি করা হবে তা আগে থেকে ঠিক করতে হয়। সেই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘স্লট বুক’। অনেক চাষির দাবি, এ বার স্লট বুক করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। তার সঙ্গে তাঁদের চিন্তা বাড়িয়েছে চাষি পিছু সরকার ধান কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায়। ফলে উদ্বৃত্ত ধান কোথায় বিক্রি করবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না চাষিরা। সরকারি শিবিরে ধান বিক্রি করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত ফড়েদের কাছেই যেতে হতে পারে বলে আশঙ্কা চাষিদের একাংশের।
এ বছর বাজারের চেয়ে বেশি দামে ধান কিনছে সরকার। সরকারি সহায়কমূল্য কুইন্টাল প্রতি ২৩৬৯ টাকা। সরকারি স্থায়ী ক্রয়কেন্দ্রে (সিপিসি) ধান বিক্রি করলে উৎসাহ ভাতা বাবদ আরও ২০ টাকা পাচ্ছেন চাষিরা। বর্তমানে খোলা বাজারে কুইন্টাল প্রতি চাষিরা পাচ্ছেন ১৯০০-১৯৫০ টাকা। খোলাবাজারের সঙ্গে দামের ফারাক প্রায় ৫০০ টাকা হওয়ায় এ বার শিবিরে ধান বিক্রি করতে চাষিরা বেশি উৎসাহী।
ধান বিক্রি করতে চাইলে নথিভুক্ত চাষিদের আগেই স্লট বুক করতে হয়। কিন্তু চাষিদের একাংশের অভিযোগ, গত তিন দিন তা তাঁরা করতে পারছেন না। তাঁদের দাবি, স্লট বুকের ‘অপশন’ আসছে না। গলসি ২ ব্লকের ভারিচার চাষি কালীচরণ ঘোষ, গলসি ১ ব্লকের পার্থ মণ্ডলেরা বলেন, ‘‘তিন দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি স্লট বুক করার। কোনও অপশন পাচ্ছি না। প্রথম দিকে ফাঁকা পাইনি। এখন আবার অপশন নেই। সমনে বোরো চাষ। ধান বিক্রি করতে না পারলে চাষ করতে পারব না।’’
শুধু স্লট বুকিং-ই একমাত্র সমস্যা নয়। সরকার এ বার ধান কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় সমস্যা বেড়েছে চাষিদের। তাঁদের দাবি, গত বছর সরকার প্রত্যেক নথিভুক্ত চাষির থেকে সর্বনিম্ন ৩০ কুইন্টাল ধান কিনেছিল। কিন্তু এ বার সেই পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেক করা হয়েছে। অর্থাৎ, এ বার ১৫ কুইন্টাল ধান কেনা হচ্ছে প্রত্যেক চাষির থেকে। এতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষিদের কপালে। বহু চাষির ঘরে ধান জমে থাকছে। সেই ধান তারা কোথায় বিক্রি করবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না চাষিরা।
বর্ধমান ১ ব্লকের চাষি মেহবুব মণ্ডল, শেখ আতাউর রহমানেরা বলেন, ‘‘এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় ধান কম বিক্রি করতে হবে এ বার। তার উপরে আবার স্লট বুক করতে পারছি না। খুবই সমস্যায় পড়েছি।’’ প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘১৫ কুইন্টাল ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই মতো ধান কেনা হচ্ছে।’’ গলসির বিস্তীর্ণ এলাকায় অন্যের জমিতে চাষ করেন ভাগচাষিরা। তাঁদের দাবি, সরকারি শিবিরে ধান না কেনা হলে, তাঁদের তো শেষপর্যন্ত ফড়েদেরই কাছেই ধান বেচতে হবে কম দামে। তা হলে সে-ই তো ক্ষতির মুখেই পড়বেন চাষিরা। জেলা খাদ্য নিয়ামক শেখ আলাউদ্দিন বলেন, ‘‘স্লট বুক হচ্ছে না, এমন সমস্যার কথা জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ করব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)