পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কেও আটক করল পুলিশ। দলীয় কার্যালয় থেকে ত্রাণসামগ্রী পাচারের অভিযোগে বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রবীণ নেতা। তাঁকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন বিজেপির কর্মী থেকে স্থানীয়দের একাংশ। পরে পুলিশের হাতে আটক হন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রবীন্দ্রনাথের বাড়ির ঠিক উল্টো দিকে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে কিছু জিনিস সরাতে দেখা যায়। সেখানে সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হন স্থানীয় বিজেপি নেতা এবং কর্মীরা। তাঁরা কী জিনিস দেখার জন্য জোরাজুরি করেন।
বিজেপির দাবি, ওই তৃণমূল কার্যালয়ে সরকারি জিনিসপত্র মজুত করে রাখা ছিল। নানা ত্রাণসামগ্রী যেমন, পোশাক, কম্বল, ত্রিপল ইত্যাদি সরানোর চেষ্টা করছিলেন তৃণমূলের কয়েক জন। তাদের কর্মীরা হাতেনাতে ধরেছেন। অন্য দিকে, ওই নিয়ে গন্ডগোল শুরু হতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে যান তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, তখন রবীন্দ্রনাথ ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন কয়েক জন। গন্ডগোল শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সেখান থেকেই আটক করা হয় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথকে। এর কিছু ক্ষণ বাদে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই প্রবীণ নেতা। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
ইতিমধ্যে পূর্ব বর্ধমানের দুই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসকে সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে পাকড়াও করে এনেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের মারধর, টাকা তোলা, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। কালনার প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগও গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণসামগ্রী সরানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও ব্লক স্তরের আরও কয়েক জন তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছেন পূর্ব বর্ধমানে।