রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের বাড়ির অদূরে তৃণমূল কার্যালয় থেকে কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল। স্থানীয় সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার কামারহাটি গ্রামের তৃণমূল কার্যালয় থেকে ৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। সোমবার বিকেলে পুলিশ-প্রশাসনের উপস্থিতিতে পার্টি অফিসে তল্লাশি হয়। কার্যালয়ে পরিচালনার দায়িত্বে থাকা টিয়া মজুমদার নামে এক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
রায়না-২ ব্লকের গোতান অঞ্চলের কামারহাটি গ্রামের তৃণমূলের ওই পার্টি অফিসটি প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপের বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে। দীর্ঘ দিন ধরে অফিসটি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়েরা। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে সেখানে দলের নেতা-কর্মীদের যাতায়াতও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা তাপস বাগ বলেন, ‘‘সোমবার সকালে কয়েক জন গ্রামবাসী কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকেছিলেন। তাঁরা কার্তুজ পড়ে থাকতে দেখেন। গোটা বিষয়টি যাচাই করার পর মাধবডিহি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।’’
সোমবার বিকেলে রায়না-১ ব্লকের বিডিও শুভাশিস রায়কে সঙ্গে নিয়ে মাধবডিহি থানার ওসি রাজেশ মাহাতোর পুলিশকর্মীদের নিয়ে তৃণমূলের ওই কার্যালয়ে যান। পুরো তল্লাশি প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফিও করা হয়। বর্ধমান দক্ষিণ মহকুমার এসডিপিও অভিষেক মণ্ডল বলেন, ‘‘তল্লাশিতে মোট ছ’রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। তবে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র মেলেনি। কার্তুজগুলি কী জন্য রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’’
আরও পড়ুন:
তৃণমূল কার্যালয় থেকে কার্তুজ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রায়নার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুভাষ পাত্র। তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনায় স্পষ্ট যে, এলাকায় বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ মজুত রাখা ছিল। নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক পুলিশ।’’ পাশাপাশি রায়না-২ ব্লকের তৃণমূল নেতৃত্বের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান শাসকদলের বিধায়ক।