Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বিতণ্ডায় বাধা পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনে, বাধল মারপিটও

নিজস্ব সংবাদদাতা
মেমারি ও পূর্বস্থলী ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:১০

পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনে কোন্দল চলছেই তৃণমূলে। বৃহস্পতিবার মেমারির সাতটি পঞ্চায়েতের মধ্যে পাঁচটিতেই দলের সিদ্ধান্ত না মেনে ভোটাভুটি করে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন করলেন সদস্যেরা। এর মধ্যে দুর্গাপুর পঞ্চায়েতে প্রধান নিয়ে গোষ্ঠী-বিবাদের জেরে বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। শেষে মেমারি ১ ব্লক প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে ভোটাভুটি হয়। দেবীপুর ১ পঞ্চায়েতের পূর্ণ গ্রামে বোর্ড গঠনের পরে দুই গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে মারপিট বাধে। এলাকায় যায় পুলিশের বড় বাহিনী ও র‌্যাফ। পূর্বস্থলী ২ ব্লকে এ দিন আটটি পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন ছিল। সেখানে একটি পঞ্চায়েতে দলের নির্দেশ উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ দিন মেমারিতে বাগিলা ও গোপগন্তার ২ পঞ্চায়েতে ভোটাভুটি ছা়ড়াই বোর্ড গঠন হয়। বাগিলায় সবুজ পোশাক পরে পঞ্চায়েতের বাইরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে শপথ নেন তৃণমূলের সদস্যেরা। কিন্তু বাকি পাঁচটি পঞ্চায়েতে ব্লক বা জেলা নেতৃত্বের ঠিক করে দেওয়া প্রধান বা উপপ্রধানে সায় দেননি তৃণমূল সদস্যদের একাংশ। ফলে, ভোটাভুটি অনিবার্য হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দলের মনোনীত প্রার্থীরা হেরে গিয়েছেন।

জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, দলুইবাজার ১ পঞ্চায়েতে প্রধান হওয়ার কথা ছিল গীতা দাসের। কিন্তু সভা চলাকালীন সমাপ্তি ঘোষের নাম প্রস্তাব হয়। ভোটাভুটির পরে ৮-৪ ভোটে জিতে যান সমাপ্তি। গোপগন্তার ১ পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান হিসেবে দল ঠিক করেছিল করবী ঘোষ ও রূপালি চট্টোপাধ্যায়ের নাম। কিন্তু প্রধান পদেও লড়াইয়ে নামেন রূপালি। তিনি হেরে যান। উপপ্রধান পদে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়েন তৃণমূলেরই সদস্য আসরাফ চৌধুরী। তিনিই উপপ্রধান হয়ে যান।

Advertisement

দেবীপুর ১ পঞ্চায়েতে কার্তিক ক্ষেত্রপালকে হারিয়ে প্রধান হন সঞ্জয় ক্ষেত্রপাল। উপপ্রধান পদে নাসিরা বিবি ১৪-৮ ভোটে হারিয়ে দেন দল নির্ধারিত প্রার্থী নাজির হোসেনকে। এই পঞ্চায়েতের পূর্ণ গ্রামে বোর্ড গঠনের পরে দু’পক্ষের মধ্যে গোলমাল বাধে। নিমো ১ পঞ্চায়েতে প্রধান পদের জন্য ভোটাভুটি না হলেও উপপ্রধান পদের জন্য ভোটাভুটিতে অর্জুন টুডু হারিয়ে দেন শঙ্কর হাঁসদাকে।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর পঞ্চায়েতে এ দিন বিকেল ৩টে থেকে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ার ছিল। দলের তরফে প্রধান ও উপপ্রধানের জন্য মায়া রায় ও নিতাই ঘোষের নাম প্রস্তাব করা হয়। পাল্টা হিসেবে শিখা রায় ও শেখ সাইনের নাম তোলেন দলের কিছু সদস্য। এ নিয়ে দু’পক্ষের বিবাদ শুরু হয়ে যায়। যার ফলে প্রায় আড়াই ঘন্টা বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। শেষে প্রধান নির্বাচিত হন শিখা রায়। উপপ্রধান হন নিতাই ঘোষ।

ভাতারের নিত্যানন্দপুর পঞ্চায়েতে আবার উপপ্রধান পদে দল নির্ধারিত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়াকে ১৪-৩ ভোটে হারিয়ে দেন জুলফিকার শেখ। এক সদস্য ভোট দেননি। নিত্যানন্দপুর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ হবিবুল্লা এ দিনই জেলা সভাপতিকে চিঠি দিয়ে দাবি জানিয়েছেন, যাঁরা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ অবশ্য জানান, এখনও ওই চিঠি পাননি।

পূর্বস্থলী ২ ব্লকে আটটি পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন হয় এ দিন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠক করে প্রধান, উপপ্রধানের নাম ঠিক করে দিয়েছেন কাটোয়ার বিধায়ক তথা পূর্বস্থলীর দলীয় পর্যবেক্ষক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। সাতটি পঞ্চায়েতে সেইমতো নির্বাচন হলেও মুকসিমপাড়ায় তা মানা হয়নি। সেখানে দলের তরফে আঞ্জুমনোয়ারা খাতুনকে প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু, সদস্যদের একাংশ এ দিন তাতে বেঁকে বসেন। শেষে ভোটাভুটিতে ৯-৭ ব্যবধানে জিতে প্রধান হন প্রতিমা দাস। উপপ্রধান হন আলিবুদ্দিন শেখ। কালেখাঁতলা ২ পঞ্চায়েতে সীমা দাস প্রধান ও কালীকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় উপপ্রধান হন।

পূর্বস্থলীতে আনন্দময়ী হালদার প্রধান ও পঙ্কজ গঙ্গোপাধ্যায় উপপ্রধান নির্বাচিত হন। নিমদহে প্রধান হন মিহির দাস, উপপ্রধান মর্জিনা শেখ। পিলা পঞ্চায়েতে সুমন দাস প্রধান ও রুকসোনা বেগম উপপ্রধান, কালেখাঁতলা ১ পঞ্চায়েতে রুমা দাস প্রধান ও শ্যামসুন্দর দাস উপপ্রধান হন। পাটুলিতে ঝর্না দাস প্রধান ও প্রবীর দাস উপপ্রধান হয়েছেন। মাজিদা পঞ্চায়েতের প্রধান হন বাসন্তী মণ্ডল সরকার ও উপপ্রধান লুতফা বিবি শেখ।

আরও পড়ুন

Advertisement