Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

হোর্ডিং খোলা নিয়ে শহরে চাপান-উতোর

শহর জুড়ে হোর্ডিংয়ের রমরমা। অথচ, রাজস্ব ঢোকে না পুরসভার ভাঁড়ারে। এমন সব বেআইনি হোর্ডিং চিহ্নিত করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয়ের পরিকল্পনা ছিল দুর্গা

নিজস্ব সংবাদদাতা
দুর্গাপুর ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:০৫
Save
Something isn't right! Please refresh.
হোর্ডিং নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নিজস্ব চিত্র

হোর্ডিং নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নিজস্ব চিত্র

Popup Close

বেআইনি ভাবে হোর্ডিং লাগানোর অভিযোগে সোমবার সিটি সেন্টার এলাকায় হোর্ডিং খুলতে গিয়েছিলেন দুর্গাপুর পুরসভার কর্মীরা। কিন্তু হোর্ডিং সংস্থাগুলির বাধায় তাঁরা ফিরে আসতে হয় বলে অভিযোগ। পুরসভার অবশ্য দাবি, ওই কর্মীরা হোর্ডিং খুলতে যাননি। তাঁরা বেআইনি হোর্ডিং চিহ্নিত করতে গিয়েছিলেন।

শহর জুড়ে হোর্ডিংয়ের রমরমা। অথচ, রাজস্ব ঢোকে না পুরসভার ভাঁড়ারে। এমন সব বেআইনি হোর্ডিং চিহ্নিত করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয়ের পরিকল্পনা ছিল দুর্গাপুর পুরসভার। ২০১৮ সালের জুনে বেআইনি ভাবে যারা হোর্ডিং লাগিয়েছে বলে অভিযোগ, তাদের কাছে বকেয়া চেয়ে পুরসভা চিঠি পাঠায়। ২০১১ সালে পুরসভায় বাম বোর্ডের আমলে হোর্ডিংয়ে অনিয়মের প্রথম অভিযোগ তোলে তৃণমূল। রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ) শহরের সব হোর্ডিং সরিয়ে দেয়। ২০১২ সালে তৃণমূল পুরসভায় ক্ষমতায় আসার পরে ফের হোর্ডিং নিয়ে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে।

২০১৭ সালে পুরসভার নতুন বোর্ড বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুরসভা জানতে পারে, ২০১৫ সালের মার্চের পর থেকে পুরসভার ঘরে আর রাজস্ব ঢোকেনি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দুই মেয়র পারিষদ, পুরসভার অর্থ আধিকারিক ও দুই কাউন্সিলরকে নিয়ে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গড়া হয়। কার কাছে কত টাকা বকেয়া আছে, কোথায় কত গরমিল, কে বা কারা এ সব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত— সব খুঁজে বের করে রিপোর্ট দিতে বলা হয় কমিটিকে। সেই কমিটি রিপোর্টে প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকার গরমিল ধরে। প্রায় চল্লিশটি সংস্থা বেআইনি হোর্ডিংয়ের কারবারে যুক্ত বলে জানায় কমিটি। এর পরেই পুরসভা থেকে সেই সব সংস্থার কাছে ‘ডিম্যান্ড নোটিস’ পাঠানো হয়। এমনকি, এ সব কারবারে জড়িত সন্দেহে তিন পুরকর্মীকে অন্যত্র বদলিও করা হয়।

Advertisement

কিন্তু পুরসভার এ সব পদক্ষেপ কাজে আসেনি এখনও। ‘দুর্গাপুর আউটডোর অ্যাডভার্টাইজিং ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে পুরসভার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করা হয়। অক্টোবরে মামলায় স্থগিতাদেশ দেন বিচারক। সোমবার পুরসভার কর্মীরা হোর্ডিং খুলতে যান বলে অভিযোগ। হোর্ডিং সংস্থাগুলির তরফে সভাপতি তপু দাস বলেন, ‘‘পুরসভা ১৯৬৮ সালের আইন অনুযায়ী আমাদের কাছে বকেয়া চেয়ে চিঠি দিয়েছে। অথচ, ২০১৬ সালের আইনে ‘ভিস্যুয়াল ট্যাক্স’ তুলে দেওয়া হয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশের কপি পুরসভাকে দিয়েছি। তা সত্ত্বেও বেআইনি ভাবে আমাদের কয়েকটি হোর্ডিং নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদকে জমির ভাড়া ও কর দিয়ে হোর্ডিং লাগানো হয়। নতুন আইনে পুরসভা আলাদা করে কর নিতে পারে না।

পুরসভার কমিশনার পুষ্পেন্দু মিত্র অবশ্য বলেন, ‘‘অবৈধ হোর্ডিং চিহ্নিত করার জন্য পুরকর্মীরা গিয়েছিলেন। হোর্ডিং নষ্ট করার কোনও ঘটনা ঘটেনি। আদালতের কী রায় রয়েছে তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement