E-Paper

ইদের আগে গ্যাস পাওয়া নিয়ে চিন্তা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের

সৌমেন দত্ত , কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৩
কয়লার গুল দিয়ে রান্না হোটেলে। বর্ধমানে। নিজস্ব চিত্র।

কয়লার গুল দিয়ে রান্না হোটেলে। বর্ধমানে। নিজস্ব চিত্র।

বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার যে আপাতত মেলার সম্ভাবনা কার্যত নেই, তা ব্যবসায়ীদের ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন সরবরাহকারীরা। ফলে ইদের আগে মন খারাপ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের। যে খাবারের জন্য জেলার নাম ছড়িয়েছে ভিন্ রাজ্যেও, রান্নার গ্যাসের আকালে সেই সীতাভোগ-মিহিদানার জোগানও ধাক্কা খাবে, আশঙ্কা বিক্রেতাদের। তাঁদের দাবি, গ্যাসের সরবরাহে টান পড়তেই চোরাগোপ্তা পথে দ্বিগুণ দামে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার মিলছিল। শনিবার সেই বাজারও বন্ধ হয়েছে। কালনার মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবরাজ বারুইয়ের দাবি, “কোথাও সিলিন্ডার মিলছে না। সরবরাহকারী সংস্থা ফোন ধরছে না। করোনার সময়েও এ রকম পরিস্থিতিতে হয়নি।”

বর্ধমানের বিখ্যাত এক বিরিয়ানি দোকানের অন্যতম কর্ণধার রাজা সোনকার বলেন, “আমাদের রোজ দশটি সিলিন্ডার লাগে। যা সিলিন্ডার আছে তাতে রবিবার পর্যন্ত টানা যাবে। সরবরাহকারী সংস্থার কাছে সিলিন্ডার চেয়েছি। তবে পাব কিনা জানি না।” রোজা শেষে ও ইদের পরেও বিরিয়ানির চাহিদা বাড়ে। বর্ধমান শহরে একাধিক বিরিয়ানির দোকান রয়েছে শেখ সোহরাব আলির। তিনি বলেন, “বাধ্য হয়েই প্রয়োজনের অর্ধেক বিরিয়ানি তৈরি করতে হচ্ছে।” আর এক বিরিয়ানি দোকানের মালিক বাপন দে বলেন, “কাঠের জ্বালে বিরিয়ানি রাঁধতে হচ্ছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার বেশি দাম দিয়েও মিলছে না।” মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সাহেব দাসের দাবি, ‘‘জরুরি ভিত্তিতে বাণিজ্যিক গ্যাস নিতে গেলে মহকুমাশাসক ও পুরসভার থেকে অনুমতি নিতে হবে বলে সরবরাহকারীরা জানিয়েছেন।’’

তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে রমজান মাসে নানা স্বাদের খাবার তৈরি করেন শেখ সাহাবুদ্দিন। তাঁর কথায়, “গুল, কাঠের জ্বালানিতে সব খাবার তৈরি সম্ভব নয়। রোজা শেষে অনেকেই খাবারের বরাত দেন। গ্যাসের আকাল পড়ায় বরাত নিতে পারছি না।” বড়বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মহম্মদ সাকিরের কথায়, “কয়লা, গুল, ঘুঁটের দিনে ফিরে এসেছি।” ঘন দুধে সর তুলতে বাড়তি গ‍্যাস পুড়ছে। তাই মালাই রোল, মালাই সিঙাড়া, মাখা সন্দেশ, কড়া পাকের মিষ্টি তৈরি কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সীতাভোগ-মিহিদানার মতো জনপ্রিয় মিষ্টি তৈরির পরিমাণও কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কালনার মাখা সন্দেশ বিক্রেতা রণজিত মোদক ও বর্ধমানের বিকাশ দাসের কথায়, “অনেক সংস্থা ইফতারে মিষ্টি চায়। গ্যাসের অভাবে মিষ্টির বরাত নিতে পারছি না।” বর্ধমানে মিষ্টি ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠনের সম্পাদক প্রমোদ সিংহ বলেন, “গ্যাসের অভাবে ৬০% ব্যবসা ক্ষতি হচ্ছে। ইদের বাজারে প্রভাব পড়ছে।”

কপালে ভাঁজ পড়েছে ক্যাটারিং ব্যবসায়ীদেরও। কালনার সৌমেন রায়, বর্ধমানের মহম্মদ সাহাবুদ্দিনদের মতো ক্যাটারিং ব্যবসায়ীরা বলছেন, “রমজান ও চৈত্রে ছোট-বড় নানা অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু গ্যাস না পাওয়ার ভয়ে বরাত নিতে পারছি না। আমরা বরাত নিলেই তো হবে না, মিষ্টি ব্যবসায়ীদেরও নিতে হবে। তাঁরা নিতে চাইছেন না।” কবে এই সমস্যা মিটবে তা জানেন না কেউই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kalna

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy