পদের বিলি বণ্টন সম্পূর্ণ না হওয়ায় অনেক কাজ আটকে রয়েছে। এ দিকে বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে এসে গিয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। পঞ্চায়েতের তিন স্তরে বোর্ড গড়ার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করে দ্রুত কাজ শুরু না করতে পারলে সেই টাকা ফিরে যেতে পারে, আশঙ্কা করছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের কোন্দল জেলার নানা এলাকায় আগেই সামনে এসেছিল। দলের একাংশের দাবি, সেই কোন্দলের জেরেই নানা পঞ্চায়েতে উপসমিতি গঠন, পঞ্চায়েত সমিতিতে কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন হয়নি এখনও। জেলা পরিষদেও সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি ছাড়া অন্য পদের বিলি বণ্টন হয়নি এখনও। এরই মধ্যে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে নানা কাজের জন্য বরাদ্দ এসে গিয়েছে। তাই দ্রুত কাজ শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা।
পঞ্চায়েতের প্রধান-উপপ্রধান বা পঞ্চায়েত সমিতিতে সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা এলাকায় শাসকদলের অন্দরে গোলমাল বেধেছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, অনেক পঞ্চায়েত সমিতিতে কর্মাধ্যক্ষের পদ নিয়েও দড়ি টানাটানি চলছে। শনিবার মেমারি ১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নিয়ে আলোচনার সময়ে দলের দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এ সবের জেরে সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচনের পরেও পঞ্চায়েত সমিতিতে বোর্ড গঠন হচ্ছে না। তেমনই অনেক জায়গায় পঞ্চায়েতেরও বোর্ড গঠন হয়নি। ফলে, কাজও আটকে যাচ্ছে।
ভাতারের এক পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, ‘‘আমাদের এলাকায় এমনিতেই দলে বেশ দ্বন্দ্ব রয়েছে। বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতে গত ৫ বছরে কাজ হয়নি বললেই চলে। পঞ্চায়েত ভোট ঘিরেও কয়েকমাস স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। টাকা এসে পড়ে থাকলেও উপসমিতি গঠন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’’ মেমারি ১ ব্লকের এক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের কথায়, ‘‘লোকসভা ভোট এগিয়ে আসছে। বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে না করতে যদি লোকসভার নির্বাচনী বিধি চালু হয়ে যায়, কাজ করা হবে কবে!’’ জেলা পরিষদের এক সদস্যও দাবি করেন, “পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের পদ বণ্টন না হওয়ায় অনেক কাজই আটকে থাকছে।’’
জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ অবশ্য বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতে উপসমিতি গঠন প্রায় শেষ। পঞ্চায়েত সমিতিতেও ঐক্যের ভিত্তিতে কর্মাধ্যক্ষদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। শীঘ্রই পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন হয়ে যাবে।’’ জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষে বা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে জেলা পরিষদও গঠন হয়ে যাবে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, আইএসজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাঙ্ক পূর্ব বর্ধমান জেলায় সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছে। এ ছাড়া চতুর্দশ অর্থ কমিশনের ৮৫ কোটি টাকা পৌঁছে গিয়েছে। সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, ‘‘সব মিলিয়ে উন্নয়ন খাতে জেলায় ১৩৫ কোটি টাকা এসেছে। ওই টাকা পঞ্চায়েতে পৌঁছতে শুরু করে দিয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে পঞ্চায়েত প্রকল্প নির্দিষ্ট করে কাজ শুরু করে দিতে পারবে।’’