E-Paper

রেশনে চাল কমিয়ে আটার বরাদ্দ বাড়ানোয় বিপাকে গ্রাহকেরা

প্রতি মাসে রেশন দোকান থেকে প্রায় ১২ কেজি চাল এবং প্রায় ৮ কেজি আটার প্যাকেট পান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

অনুপরতন মোহান্ত‌

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:২২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটের আগে রেশনে চালের বরাদ্দ কমিয়ে আটার বরাদ্দ বাড়ানোয় বিপাকে গ্রাহকেরা। রেশন দোকান থেকে এত দিন গ্রাহকদের আটার চেয়ে দ্বিগুনের বেশি পরিমাণে চাল দেওয়া হত। চলতি মাস থেকে তার উল্টো বরাদ্দের ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক দল প্রতিবাদে সরব হয়েছে। যা নিয়ে শাসক এবং বিরোধী দলের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

রেশনে বিলি করা প্যাকেটের আটার মান ভালো নয়, তাই অধিকাংশ গ্রাহক তা খান না বলে অভিযোগ। খোলা বাজারে সেই আটার প্যাকেট তাঁরা বিক্রি করে দেন। হাত ঘুরে বিক্রি হয়ে ওই আটা ব্যবসায়ীদের কাছেই পৌছয় বলে অভিযোগ। বেঙ্গল ফেয়ার প্রাইস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি মিহির দাস বলেন, ‘‘রেশনের আটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।’’ কলকাতায় রেশনে গম দেওয়া হয়। সাধারণ গ্রাহক আটার বদলে আগের মত গম চাইছেন। বিষয়টি রেশন ডিলার সমিতি থেকে খাদ্য দফতরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের জানিয়েও কাজ হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। জেলা খাদ্য দফতরের নিয়ামক শুভাশিস গোস্বামী বলেন, ‘‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।’’ রেশনের আটা নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি বলে তিনি দাবি করেন।

শহরের এক নির্মাণ শ্রমিক বিকাশ দাস জানান, তাঁর চার জনের পরিবার। প্রতি মাসে রেশন দোকান থেকে প্রায় ১২ কেজি চাল এবং প্রায় ৮ কেজি আটার প্যাকেট পান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ওই চালের ভাত খেলেও আটার রুটি তৈরির কিছু ক্ষণ পরেই শক্ত হয়ে যায় বলে তাঁর অভিযোগ। ফলে তাঁর মতো অনেকই রেশনে দেওয়া আটা না খেয়ে ওই প্যাকেট বিক্রি করে দেন। চলতি মাস থেকে ৮ কেজি চাল এবং ১২ কেজি আটার প্যাকেট পেয়ে বিকাশের মত সাধারণ গ্রাহকদের অনেকেই ফাঁপরে পড়েছেন।

আর‌এসপির জেলা সম্পাদক সুচেতা বিশ্বাসের অভিযোগ, ‘‘ভোটের আগে এক শ্রেণির মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে রাজ্য সরকার গরিব গ্রাহকের চাল কমিয়ে আটার প্যাকেটের পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়েছে।’’ সরকারি ভর্তুকির টাকা নয়ছয় হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে বলে তিনি জানান। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, ‘‘কেন্দ্র রাজ্যকে গম দেয়। রাজ্য আটা করে গ্রাহকদের সরবরাহ করে, তা খাওয়া যায় না।’’ দুর্নীতি করতেই আটার বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে সুকান্ত দাবি করেন।

জেলা তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, ‘‘ভোটের আগে বিরোধীরা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। গম ভাঙানোর খরচ ও সময় বাঁচাতে সাধারণ গরিব মানুষকে সরাসরি ওই আটা তুলে দিতেই রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত।’’ খোলা বাজারে আটা বিক্রি ও মান নিয়ে দফতরের আধিকারিকদের খতিয়ে দেখতে বলবেন বলে তিনি দাবি করেন। জেলা খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রায় ১৫ লক্ষ রেশন গ্রাহককে কেন্দ্রীয় সরকার 'জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে' (এন‌এফ‌এস‌এ) বিনামূল্যে প্রতি মাসে মাথা পিছু ৩ কেজি চাল ও ২ কেজি করে গম দেন। ওই গম আটা করে রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ দফতর রেশনে দেয়। খরচ হয় প্রতি প্যাকেট প্রায় ৩০ টাকা। মুদির দোকান ও বাজারে প্রতি প্যাকেট ২০ টাকা থেকে ২২ টাকা দামে অধিকাংশ গ্রাহক বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ

চলতি ফেব্রুয়ারিতে মাথা পিছু চালের বরাদ্দ কমিয়ে ২ কেজি এবং আটা বাড়িয়ে প্রায় ৩ কেজিহয়েছে বলে খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rice Wheat Atta

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy