ফর্ম পূরণ করেছেন ‘ঠিকঠাক ভাবে।’ জমা দিয়েছিলেন অনেক আগে। তার পরেও অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢোকেনি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সে জন্য পুরসভায় গিয়ে পুরপ্রধানের গায়ে ডিম নিক্ষেপ করে ক্ষোভপ্রকাশ মহিলাদের। অভিযোগ, ওই সময় পুরসভার ভবন অন্ধকার করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ।
সম্প্রতি মেখলিগঞ্জ পুরসভার পুরপ্রধান-সহ ছয় কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়েছেন। কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের অফিসে গিয়ে তাঁরা কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। মেখলিগঞ্জ পুরসভায় কংগ্রেস এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেই পুরসভার কাউন্সিলরেরা থেকে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মেখলিগঞ্জের মহিলাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সঠিক ভাবে ফর্ম পূরণ করার পরেও তাঁরা বিজেপি সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেন এমনটা হল, তার জবাব চাওয়া হয় পুরপ্রধান প্রভাত পাটনির কাছে। প্রথমে প্রভাতকে ঘিরে বিক্ষোভ, তার পর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং শেষমেশ পুরপ্রধানকে নিশানা করে একের পর এক কাঁচা ডিম ছোড়া হল শুক্রবার।
পুরো ঘটনায় ক্ষুব্ধ এবং বিস্মিত পুরপ্রধান প্রভাত। তিনি জানান, এখানে তাঁর করণীয় কিছু নেই। কিন্তু কেউ তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি। তিনি বলেন, ‘‘নেতাদের গায়ে ডিম ছোড়া এখন পশ্চিমবঙ্গের ‘কালচার’ (সংস্কৃতি) হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ প্রভাতের ব্যাখ্যা, ‘‘মেখলিগঞ্জের মহকুমাশাসক পুরসভার এগ্জিকিউটিভ অফিসারকে অন্নপূর্ণা যোজনার কাজের কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। আমি গতকাল (বৃহস্পতিবার) জানতে পারি, অনেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি। বিষয়টি নিয়ে আমি মহকুমাশাসকের সঙ্গে কথাও বলি। এই যোজনার পুরসভার যা যা কাজ, তার ৮০ শতাংশ আমরা করে ফেলেছি। তার পরেও কিছু লোকজন মহিলাদের এনে আমার চেম্বারে ঢুকে আমাকে হেনস্থা করলেন!’’
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শাবানা খাতুন নামে এক মহিলা বলেন, ‘‘অনেক দিন আগে অফলাইনে ফর্ম পূরণ করে পুরসভায় জমা দিয়ে গিয়েছিলাম। আশা করেছিলাম এক তারিখে (১ জুলাই থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন উপভোক্তারা)। কিন্তু পরে জানলাম কোনও ভেরিফিকেশন হয়নি! এই দোষ কার?’’
একই কারণে বিক্ষোভ হাওড়াতেও। অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন মহিলারা। তারই পাশাপাশি পঞ্চায়েত প্রধানকে ডিম ছোড়েন তাঁরা। দুপুরে ওই নিয়ে উত্তেজনা ডোমজুড়ের উত্তর ঝাঁপড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।