কোনও ফোন বা মেসেজ ছাড়াই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েবের অভিযোগ উঠল বর্ধমানে। শহরের উদয়পল্লি এলাকার সেলুনকর্মী অলোক দাসের অভিযোগ, ব্যাঙ্কে পাসবই আপডেট করাতে গিয়ে তিনি দেখেন, অ্যাকাউন্ট ফাঁকা। জানা যায়, ভিন্ রাজ্যের একটি এটিএম থেকে টাকাগুলি তুলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে জেলা পুলিশের সাইবার সেল।
গত মাসের গোড়ায় বড়নীলপুরের উত্তরপাড়ার এক বাসিন্দা নীলিমা পালের অ্যাকাউন্ট থেকেও তিন ধাপে সতেরো হাজার টাকা উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বিহারের রামগড়ের কোনও এক এটিএম থেকে ওই টাকা উঠেছে বলে মেসেজে দেখা যায়। আতঙ্কিত নীলিমাদেবী ও তাঁর স্বামী রতন পাল ব্যাঙ্কে ও বর্ধমান থানায় অভিযোগ করেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে ফের ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মানকর শাখা এক গ্রাহক সঙ্গীতা পাল অভিযোগ করেন, কোনও ফোন বা মেসেজ ছাড়া তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ হাজার টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে।
এ দিন অলোকবাবু জানান, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কাঞ্চননগর শাখায় অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাঁর। রোজগারের পুরো টাকাটাই সেখানে রাখতেন তিনি। অভিযোগ, ২৪ ফেব্রয়ারি ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন, অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই। ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা যায়, ওই মাসের ১৫ তারিখ রামগড়ের একটি এটিএম থেকে তাঁর ১৭ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, টাকা তোলার কোনও মেসেজ পাননি তিনি। কার্ডের তথ্য চেয়ে কোনও ফোন আসেনি তাঁর কাছে।
অলোকবাবু বলেন, ‘‘গরিব মানুষ, খেটেখুটে দু’পয়সা জমিয়ে ব্যাঙ্কে রেখেছিলাম। সেই টাকা যদি ব্যাঙ্ক থেকেই চলে যায়, তাহলে কী করব?’’ টাকা ফেরত পেতে তিনি বর্ধমান থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
জেলা পুলিশের সাইবার সেলের দাবি, অনেক সময় ব্যাঙ্কের সমস্যার কারণে বা কার্ড ক্লোন হলে এই ধরণের ঘটনা ঘটে। এমনটা ঘটলে আগে ব্যাঙ্কে জানানো উচিত বলেও তাদের দাবি।