E-Paper

প্রথম দিনেই পোর্টাল-সমস্যা, বাকি পূর্ব বর্ধমানের বহু ব্লক

নতুনগ্রামে পুকুর সংস্কারের মধ্যে দিয়ে প্রকল্পের সূচনা করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অনুপ দত্ত। সভায় ছিলেন বিধায়ক (গলসি) রাজু পাত্র, প্রকল্প আধিকারিক সৌমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০১:৪৬

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কথা ছিল, বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে জেলায় চালু হয়ে যাবে ভিবিজি-রামজি প্রকল্প। কিন্তু পোর্টাল না খোলায় বেশ কয়েকটি ব্লক মাস্টার রোল বার করতে পারেনি। ফলে জেলার সব পঞ্চায়েত তো দূর, সব ব্লকেও কেন্দ্রের নতুন প্রকল্প চালু হয়নি।

এ দিন গলসি ১ ব্লকের মানকর পঞ্চায়েতের নতুনগ্রামে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ওই প্রকল্পের গেজ়েট অনুযায়ী, কৃষি কাজের ব্যস্ত সময়ে কেন্দ্রের ওই প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকবে। ৬০ দিন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখা যাবে। কোন কোন এলাকায় কাজ বন্ধ রাখা জরুরি, তা জেলা প্রকল্প আধিকারিক বা জেলাশাসক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাবেন। এ দিনই সরকারি মঞ্চ থেকে বিধায়ক (গলসি) রাজু পাত্র সংখ্যালঘুদের ‘দলের পাশে’ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন।

নতুনগ্রামে পুকুর সংস্কারের মধ্যে দিয়ে প্রকল্পের সূচনা করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অনুপ দত্ত। সভায় ছিলেন বিধায়ক (গলসি) রাজু পাত্র, প্রকল্প আধিকারিক সৌমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক বলেন, “আগে ১০০ দিনের কাজ ছিল। আমাদের সরকার ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। আমরা যেখানে কাজ করছি, সেটা সংখ্যালঘু এলাকা। আমাদের সরকারের কাছে জাত-ধর্ম কিছু নেই। সকলকে সমান ভাবে দেখি। সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের বলছি, আমাদের দলের সঙ্গে থাকুন, পাশে থাকুন। আপনাদের দল যে সুবিধাটা দেবে, তা আগে কোনও সরকার দেয়নি। সংখ্যালঘুদের অনেকেই আমাকে বলছেন, কেউ কেউ হুমকি দিচ্ছে। আমাকে জানাবেন। দেখব সে কত বড় নেতা। কোনও হুমকি-সংস্কৃতি চলবে না।” তৃণমূল ও সিপিএম নেতাদের কটাক্ষ, “সরকার এখনও হামাগুড়ি দিতে শেখেনি। এর মধ্যেই বিজেপি নেতা-বিধায়কেরা সরকারি মঞ্চকে দলীয় সভা ভেবে নিচ্ছেন। এই প্রবণতা মারাত্মক।”

জেলায় মোট জব কার্ডের ৯০% ই-কেওয়াসি করার লক্ষ্যমাত্রা আছে। সূত্রের খবর, এখনও লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে পূর্ব বর্ধমান। অতিরিক্ত জেলাশাসক সভায় বলেন, “এই প্রকল্পে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। পঞ্চায়েত বা ব্লকে আবেদন করলে সাত দিনের মধ্যে কাজ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। খুব দেরি হলে ১৫ দিনের মধ্যে নিশ্চিত ভাবে কাজ মিলবে। কাজ না দিতে পারলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।” প্রকল্পের নির্দেশ অনুযায়ী, মজুরিও সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে। দিতে দেরি হলে দৈনিক হিসাবে ক্ষতিপূরণ পাবেন শ্রমিকেরা। জবকার্ডের পরিবর্তে পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া হবে ‘গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা কার্ড’। ভুয়ো হাজিরা ঠেকাতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা বাধ্যতামূলক। কাজ করতে গিয়ে কোনও শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নেবে। কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেললে বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এক আধিকারিক বলেন, “সব গ্রামেই কাজ হবে। পরিকল্পনা জমা পড়ছে। চারটে পোর্টাল সংযোগ করে কাজ করতে হচ্ছে বলে এক দিনে সব পঞ্চায়েতে কাজ শুরু হয়নি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী সম্পদের সঙ্গে জীবন-জীবিকার উন্নতির সুযোগ রয়েছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

G RAM G Bill

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy