বুথ শক্তিশালী করতে হবে— জেলায় এলেই বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্দেশ দেন জেলা নেতাদের। কিন্তু নিচুতলায় সংগঠনের ফাঁকফোকর কিছুতেই ভরাট হয় না। ফের একটি নির্বাচন কড়া নাড়ছে দরজায়। আবার সেই একই নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অতীতের ভুল শুধরে সংগঠনকে চাঙ্গা করার দাওয়াই খুঁজছেন জেলা নেতারা। তাঁদের দাবি, এ বার নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে বুথ কমিটি তৈরি হয়েছে। তাতে ‘জল’ নেই।
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হলেও নিচুতলায় বিজেপির সক্রিয়তা তেমন একটা দেখা যায় না। তা-ই এ বার বুথ কমিটি গঠনে বাড়তি জোর দিতে বলা হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। নেতাদের দাবি, কোন বুথে দল কেমন কমিটি গড়েছে, সদস্য সংখ্যা কত, এ সবের সবিস্তার তথ্য জানতে পারছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। বুথ শক্তিশালী করতে আরও পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা নিয়ে গঠিত বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা। লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ছিল ১৯৪২টি। এখন বুথ সংখ্যা বেড়ে দু’হাজার ছাড়িয়েছে। বিজেপি নেতাদের একাংশের দাবি, এতদিন বুথ কমিটি গঠন নিয়ে মণ্ডল স্তর থেকে আসা রিপোর্টে বিস্তর ‘জল’ থাকত। অনেক বুথে কমিটি না হওয়া সত্ত্বেও রিপোর্টে উল্টো দাবি করা হত। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যেত বহু বুথে সংগঠনের অস্তিত্বই নেই।
এ বার বিধানসভা ভোটের সাত মাস আগে বুথ কমিটি গঠন শুরু করেছে বিজেপি। নেতৃত্বের দাবি, এখনও পর্যন্ত কম-বেশি ১৮০০ বুথ কমিটি গঠিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে এক হাজার ছ’শোর বেশি বুথ ‘ভেরিফিকেশন’ (যাচাই) হয়ে গিয়েছে। এক জেলা নেতার কথায়, ‘‘সর্বোচ্চ ২৫ এবং সর্বনিম্ন পাঁচ জনকে নিয়ে বুথ কমিটি গড়া হয়েছে। দলীয় অ্যাপের মাধ্যমে হয়েছে ভেরিফিকেশন। তাতে বুথ কমিটিতে কারা রয়েছেন, তাঁদের নাম, ফোন নম্বর, ভোটার পরিচয়পত্র, ছবি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তোলা হয়েছে ছবি। ফলে এ বার বুথ কমিটিতে জল মেশানোর সুযোগ নেই। প্রকৃত তথ্য দিল্লিতে বসে পেয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।’’
তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত যে সমস্ত বুথে কমিটি গঠিত হয়নি, সেগুলির বেশির ভাগই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৬-১০ জানুয়ারি বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে বুথ বিজয় কর্মশালা হবে। সেখানে বুথে কী ভাবে কাজ করতে হবে, তা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কর্মীদের। ধীরে ধীরে এই কর্মসূচি নিয়ে যাওয়া হবে শক্তিকেন্দ্র এবং মণ্ডলে। প্রশিক্ষণ-পর্বে শেখানো হবে, কী ভাবে বুথ বিশ্লেষণ করতে হয়। মানুষের চাহিদা বা ক্ষোভ কোথায়। এ সব জেনে নির্বাচকদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া হবে।
বিজেপির বর্ধমান বিভাগের বুথ সশক্তিকরণ প্রমুখ তথা কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বুথ স্তরে সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির জন্য দল নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে কাজ করছে। বিধানসভা নির্বাচনে তার সুফল মিলবে।’’
বিজেপির দাবি, পরিবর্তন সভা নামে কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে। এই সভার জন্য বাজার, রেলস্টেশনের মতো জনবহুল এলাকাকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে রাজ্যের শাসকদলের নানা দুর্নীতি তুলে ধরা হচ্ছে। সব শুনে তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য মুখপত্র তথা কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের কটাক্ষ, ‘‘সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে গিয়েছে বিজেপি। ওরা যা-ই করুক, কোনও কৌশলই কাজে আসবে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)