E-Paper

দায় নিচ্ছে না ভ্রমণ সংস্থাও, ফিরতে চেয়ে সঙ্কটে পর্যটকেরা

বেড়াতে গিয়ে দুবাই বিমানবন্দরে আটকে থাকা অনেকেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি। কলকাতার একটি দল ফোনে জানাল, ফেরার উড়ানের টিকিট পাচ্ছে না। অভিযোগ, দুবাই-কলকাতা উড়ানের ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে এখন হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৭:০০

—প্রতীকী চিত্র।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে বলে ফোনে আসা সতর্কবার্তা রাতের ঘুম ওড়াচ্ছে। বিমানবন্দরে গেলে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে হাজার হাজার মানুষের বাড়ি ফেরার আকুতি আর শয়ে শয়ে উড়ান বাতিলের খবর। এই যুদ্ধ-পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে, কবে নিজের দেশে ফেরা যাবে— তা নিয়েই প্রবল অনিশ্চয়তার ভাবনা ঘিরে ধরছে।

বেড়াতে গিয়ে দুবাই বিমানবন্দরে আটকে থাকা অনেকেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি। কলকাতার একটি দল ফোনে জানাল, ফেরার উড়ানের টিকিট পাচ্ছে না। অভিযোগ, দুবাই-কলকাতা উড়ানের ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে এখন হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার। বাড়তি টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেও সেই উড়ানও বাতিল হয়ে যাচ্ছে। দুবাই প্রশাসন আটকে পড়া পর্যটকদের অতিরিক্ত দিনের হোটেলভাড়া ও খাবারের খরচ দেওয়ার কথা বললেও তা মিলছে না বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে উড়ান বাতিল করলেও বহু বিমান সংস্থাই যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছে না। নিজেদের পকেট থেকে দিয়ে বিল পরে জমা করার জন্য বলা হচ্ছে। তবে, অতিরিক্ত টাকার সংস্থান সকলের না থাকায় সঙ্কটে পড়েছেন অনেকেই।

দুবাই-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন বড় বিমানবন্দর গোটা বিশ্বের বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রে ট্রানজ়িট হাব হিসাবে কাজ করে। ইরানের সঙ্গে ইজ়রায়েল ও আমেরিকার সংঘাতে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। যার প্রভাব পড়েছে বিমান পরিষেবায়। দুবাই-সহ একাধিক বিমানবন্দর কার্যত অবরুদ্ধ। দুবাইয়ে আটকে থাকা কলকাতার সপ্তর্ষি চক্রবর্তী জানালেন, কলকাতা থেকে ১২ জনের দল নিয়ে তিনি ২৬ ফেব্রুয়ারি আবু ধাবি পৌঁছন। পরের দিন দুবাই চলে যান। গত ৩ মার্চ তাঁদের ফেরার উড়ান ধরার কথা ছিল। সপ্তর্ষি বলেন, ‘‘রাত ২টোর উড়ান ছিল। বিকেল সাড়ে ৫টায় মেসেজ পাই যে, সেটি বাতিল হয়েছে। রাত ১১টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে বসে ছিলাম, এক বোতল জল ছাড়া বিমান সংস্থার তরফে কোনও সাহায্য পাইনি। হাজার হাজার লোকের ভিড়ে তখন উপচে পড়ছে টার্মিনাল। দুবাই প্রশাসন সাহায্যের কথা বললেও তার কিছুই পাইনি। উপায় না দেখে নিজেরাই হোটেল ভাড়া করে আছি।’’

সপ্তর্ষি আরও বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন দফায় দফায় বিমানবন্দরে ঘুরছি। অন্য উড়ানে ৬৯ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেও উড়ান বাতিল হয়েছে। এ দিন বিমানবন্দরে গিয়ে জানলাম, আগামী ৮ মার্চ ফেরার বিমান দেওয়া হবে। খোঁজ করে দেখলাম, প্রধান কয়েকটি শহরে একটি-দু’টি করে বিমান পাঠানো হচ্ছে। তাতেও আসনের যে হাহাকার, জায়গা হচ্ছে না। এখনও হোটেল বা খাবারের দাম আকাশছোঁয়া হয়নি, এটাই রক্ষে। কত দিন এই অবস্থা থাকবে, জানি না।’’

এই পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ ভ্রমণ সংস্থাই পর্যটকদের দায়িত্ব নিতে নারাজ। সমাজমাধ্যমে অনেকেই পরিস্থিতির উল্লেখ করে পোস্ট করেছেন। ভারতীয় দূতাবাসকে ‘ট্যাগ’ করেও অনেকে লিখেছেন, নগদ শেষ। খাবার বা জল কিনে খাওয়ারও টাকা নেই। যে ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে সেখানে গিয়েছেন, তারাও কোনও দায়িত্ব নিচ্ছে না। পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মল্লিক নামে এক ব্যক্তির ভিডিয়ো যেমন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিয়োয় তিনি কাঁদতে কাঁদতে দাবি করেন, কাজ়াখস্তান, উজ়বেকিস্তানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফিরবেন কী করে, বুঝতে পারছেন না। ফোনে এ দিন তিনি যদিও জানিয়েছেন, যে ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে তিনি গিয়েছিলেন, তারা দায়িত্ব নিয়েছে। ওই ভ্রমণ সংস্থার প্রধান সম্বুদ্ধ ঘোষ বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তি-সহ তাঁর দলে থাকা সকলকেই আলাদা বিমানে বাড়তি ৫০ হাজার টাকা করে খরচ করে নিয়ে আসছি।’’

মস্কো থেকে ফেরার পথে আটকে যাওয়া সুনীল সরকার বলেন, ‘‘সরকার কেন আরও তৎপর হবে না? তিন দিন আগে মেল করেও শুধু ‘পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা রাখুন’ লেখা ছাড়া কোনও সুরাহা পাইনি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

flight disruption Flight Fare Iran-Israel Conflict West Asia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy