E-Paper

চুপিতে অর্ধেক পরিযায়ী পাখি, কারণ কি কোলাহল

পূর্বস্থলীর চুপির জলাশয়ে গত তিন দশক ধরে আনাগোনা রংবেরঙের পরিযায়ী পাখির। শীতের মুখে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসে তারা।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৪
চুপির জলাশয়ে পরিযায়ী পাখি।

চুপির জলাশয়ে পরিযায়ী পাখি। নিজস্ব চিত্র ।

বছর বছর পর্যটক বাড়ছে। জলাশয়ের অদূরে তৈরি হয়েছে কটেজ। শীত এলেই দলে দলে হাজির হন পর্যটকেরা। চলে নৌকাবিহার। চড়ুইভাতির আসর বসে পাড়ে। কিন্তু যাদের ঘিরে এই আগ্রহ, সেই পরিযায়ী পাখি আসা কমেছে পূর্ব বর্ধমানের চুপি পাখিরালয়ে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর পক্ষী গণনায় এই জলাশয়ে ১১ হাজার পাখি মিলেছিল। এ বার সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজারের আশপাশে। অতিরিক্ত কোলাহলের জন্য পাখিরা এখান থেকে মুখ ফেরাচ্ছে, অনুমান বনকর্মী এবং এলাকাবাসীর একাংশের।

পূর্বস্থলীর চুপির জলাশয়ে গত তিন দশক ধরে আনাগোনা রংবেরঙের পরিযায়ী পাখির। শীতের মুখে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসে তারা। তাদের দেখতে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পক্ষীপ্রেমীরা আসেন। পর্যটকের ভিড় বাড়ায় পাখিরালয় ঘিরে নজরমিনার, রাস্তা, কটেজ, পিকনিকের জায়গা-সহ নানা ব্যবস্থা হয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে প্রায় কোটি টাকা খরচে পর্যটকদের বিনোদনে রেস্তরাঁ-সহ নানা পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

এ বছর গোড়া থেকেই পর্যটকেরা অভিযোগ করছিলেন, পাখির সংখ্যা কম। সম্প্রতি বনাধিকারিক (বর্ধমান) সঞ্চিতা শর্মা-সহ ২৪ জনের একটি দল গণনার কাজে নামে। বনাধিকারিক বলেন, ‘‘গত বছর এখানে ১১ হাজার পাখি পেয়েছিলাম। এ বার ৬৯টি প্রজাতির হাজার পাঁচেক পাখি দেখা গিয়েছে। রেড ক্রেস্টেড পোচার্ড, গাডওয়াল, লেসার হুইসলিং ডার্ক জাতীয় পাখিই বেশি।’’ নিয়মিত চুপিতে আসা হাওড়ার পক্ষীপ্রেমী বিমল মণ্ডল বলেন, ‘‘এ বার পাখি অনেক কম নজরে এসেছে। রাফ, রিভার টার্ন প্রজাতির পাখি নজরে পড়েনি। অন্য বার যত লেসার হুইসলিং চোখে পড়ে, এ বার সে সংখ্যাও অনেক কম।’’

বনাধিকারিক জানান, পাখি কম আসার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বন দফতরের কর্মী-আধিকারিকদের একাংশের দাবি, পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি, নৌকায় পাখি দেখতে যাওয়ার ভিড়, পাড়ে বক্স বাজিয়ে পিকনিকে নিরাপত্তার অভাব বোধ করে পরিযায়ী পাখিরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গত এক দশকে চুপিতে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে অন্তত চার গুণ। জলাশয়ে ভ্রমণে রয়েছে প্রায় ৮০টি নৌকা। এ সবের জেরে পাখি কমছে, অনুমান তাঁদের। বনাধিকারিক বলেন, ‘‘বক্স বাজাতে পর্যটকদের বার বার নিষেধ করা হয়। জলাশয়ে একটি সাঁকো তৈরি করা হয়েছিল। প্রশাসনকে জানিয়ে সেটিতে যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে।’’

এলাকার অনেকের আরও অভিযোগ, পাখি কমার পিছনে প্রশাসনের উদাসীনতাও দায়ী। স্বপন ঘোষ নামে এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘রাতে আলো জ্বেলে জলাশয়ে মাছ ধরেন অনেকে। পাখিরা তাতে ভয় পায়। এ নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’’ পক্ষীপ্রেমীদের অনেকের অভিযোগ, জলাশয়ে প্রচুর কচুরিপানা জমে। তাতে পাখিদের ঘুরে বেড়ানোর জায়গা কমে যায়। পানা পরিষ্কারেও যথেষ্ট উদ্যোগ নেই। পাখিই যদি না আসে, পর্যটকেরাই বা আর আসবেন কেন, প্রশ্ন তাঁদের।

মহকুমাশাসক (কালনা) অহিংসা জৈন বলেন, ‘‘পাখিদের উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে কিনা, নজর রাখা হচ্ছে। সমস্যা দূর করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন দফতরের পরামর্শও নেব।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

migratory birds

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy