E-Paper

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নের দাবিতে অবস্থান

নাগরিক সমাজের সম্পাদক সুবীর রানা জানান, গুসকরা এবং তার আশপাশের তিনটি থানা এলাকার প্রায় এক লক্ষ মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপরে নির্ভরশীল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৭
মহিলাদের অবস্থান গুসকরায়। নিজস্ব চিত্র

মহিলাদের অবস্থান গুসকরায়। নিজস্ব চিত্র

গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নের দাবিতে সোমবার স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হলেন এলাকাবাসীর একাংশ। গুসকরা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ বহির্বিভাগের সামনে মূল ফটকের কাছে অবস্থান শুরু হয়। ছিলেন চিকিৎসক শ্যামল দাস, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিষ্ণুপদ সিংহ, বিল্বেশ্বর ভট্টাচার্য, স্থানীয় ব্যবসায়ী-সহ সাধারণ খেটে খাওয়া মহিলারা। নানা পোস্টার হাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলে। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে দেওয়া হয়।

নাগরিক সমাজের সম্পাদক সুবীর রানা জানান, গুসকরা এবং তার আশপাশের তিনটি থানা এলাকার প্রায় এক লক্ষ মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপরে নির্ভরশীল। কিন্তু অত্যাধুনিক পরিকাঠামোর অভাবে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইসিজি, এক্স রে-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলি বাইরে করাতে হয়। তিনি বলেন, “প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা কম। জরুরি পরিষেবা, অপারেশন থিয়েটার, ভেন্টিলেশনের মতো সুবিধাগুলি না থাকায় অনেককেই বর্ধমান মেডিক্যালে রেফার করতে হয়। পথে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। বহির্বিভাগ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্য কক্ষ, আবাসন— সবই বেহাল অবস্থায় রয়েছে।” তাঁর দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন করেও সমাধান হয়নি।

চিকিৎসক শ্যামল দাস বলেন, “গত পাঁচ দশকে অঞ্চলের জনসংখ্যা ও রোগের জটিলতা দুই বেড়েছে। সেই তুলনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি।” গুসকরা পুরপ্রধান তথা রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, “আগের তুলনায় পরিষেবা উন্নত হয়েছে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া এগিয়েছে এবং শীঘ্রই কাজ হবে।” ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (আউশগ্রাম ১) জয়দ্রথ বিশ্বাস বলেন, “অনুমতি ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন, যা নিয়মবিরুদ্ধ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোর মধ্যে যা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব, তা দেওয়া হয়। উন্নয়নের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চলছে।”

তবে সুবীরের দাবি, “আমরা মৌনী প্রতিবাদ জানিয়েছি। আগে থেকেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কারও অসুবিধা করা হয়নি।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Guskara

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy