Advertisement
E-Paper

হুকের আলো দোকানে, কারচুপি বাড়ির মিটারে

পাশে আছে পাড়ার দাদা। মাসে-মাসে তার হাতে নির্দিষ্ট অঙ্ক গুঁজে দিলেই নিশ্চিন্ত। বৈধ সংযোগ না নিয়েই দিব্যি জ্বলছে আলো, চলছে টিভি, রেফ্রিজারেটর, পাখা। মাঝে-মধ্যে পুলিশ বা বিদ্যুৎ দফতর অভিযান চালিয়ে লাইন কেটে দিয়ে যায় বটে, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ফের লাইন জুড়ে দেয় সেই দাদা।

সুশান্ত বণিক

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৫ ০০:৫২
এ ভাবেই চুরি বিদ্যুৎ। শৈলেন সরকারের তোলা ছবি।

এ ভাবেই চুরি বিদ্যুৎ। শৈলেন সরকারের তোলা ছবি।

পাশে আছে পাড়ার দাদা। মাসে-মাসে তার হাতে নির্দিষ্ট অঙ্ক গুঁজে দিলেই নিশ্চিন্ত। বৈধ সংযোগ না নিয়েই দিব্যি জ্বলছে আলো, চলছে টিভি, রেফ্রিজারেটর, পাখা। মাঝে-মধ্যে পুলিশ বা বিদ্যুৎ দফতর অভিযান চালিয়ে লাইন কেটে দিয়ে যায় বটে, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ফের লাইন জুড়ে দেয় সেই দাদা।

দিনের পর দিন এই ভাবেই বিদ্যুৎ চুরি চলছে কুলটিতে। আয় হারাচ্ছে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। সম্প্রতি কুলটির নানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু বিদ্যুৎ চুরি ধরেছেন সংস্থার আধিকারিকেরা। শুধু হুক করে নয়, মিটারে কারচুপি করেও আকছার বিদ্যুত চুরি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

দিন সাতেক আগে কুলটির ডিভিসি কলোনি এলাকায় একটি বাড়িতে গিয়ে মিটারে কারচুপি ধরা হয়েছে। গত সোমবার কুলটির রানিতলা এবং বিএনআর এলাকায় পরপর দু’টি বাড়িতে অভিযান চালান সংস্থার আধিকারিকেরা। তাঁরা জানান, দু’টি বাড়িতেই মিটারে কারচুপি ধরা হয়েছে। দুই গ্রাহকের নামে থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক অঞ্চলের হুকিংও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কর্তারা জানান, কুলটির রানিতলা, চিনাকুড়ি, মনবেড়িয়া, কেন্দুয়াবাজার, যশাইডি, শিমূলগ্রাম, বালতোড়িয়া, ওল্ড সীতারামপুর ইত্যাদি এলাকায় সংস্থার তারে হুক করে বা মাটির তলার কেব্‌ল লাইন ফুটো করে বিদ্যুৎ চুরি করা হচ্ছে।

বণ্টন সংস্থার কর্তারা বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ ছিন্ন করতে গিয়ে দেখেছেন, চুরির বিদ্যুতেই নানা বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি চলছে। অনেক বাড়িতে আবার হিটার অথবা ইনডাকশন স্টোভ জ্বালিয়ে রান্না করা হচ্ছে। সামান্য টাকা দিলেই পাড়ার প্রভাবশালী কয়েক জন হুক করে এই বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ওই বাসিন্দারা। সেই প্রভাবশালীদের পিছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ। হুকের লাইন কেটে দিলেও ফের তা জুড়ে নেওয়া হচ্ছে। সংস্থার কর্তারা জেনেছেন, রানিতলায় ওয়ার্কস রোডের উপরে অনেক দোকানও চলছে চুরি করা বিদ্যুতে। বিল মেটাতে হয় না বলে ওই সব দোকানদারেরা ইচ্ছে মতো আলো-পাখা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

কেন্দুয়াবাজার, ওল্ড সীতারামপুর, শিমূলগ্রাম, বালতোড়িয়ার মতো এলাকাতেও দোকান ও বাড়িতে ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ চুরি করা হচ্ছে বলে জেনেছেন বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার কর্তারা। সংস্থার এক কর্তা জানান, এই সব এলাকায় একশ্রেণির ‘দাদা’ আছে। তারা হাইটেনশন লাইন থেকে হুক করে বিদ্যুৎ বাড়ি বা দোকানে সরবরাহ করছে। বিনিময়ে তারা নিচ্ছে প্রায় ২৫০ টাকা। এ ভাবে তারা মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা রোজগার করছে বলে অনুমান বিদ্যুৎ-কর্তাদের। লোকসান হচ্ছে সংস্থার। ‘‘এ যেন চুরির ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম’’, বলছেন বিদ্যুৎ-কর্তারা।

মিটারে কারচুপি করেও বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা এই এলাকায় কম নয়। পরপর কয়েকটি চুরি ধরা পড়ায় তা স্পষ্ট হয়েছে। বিদ্যুৎ কর্তারা জানান, একটি বিশেষ চিপ ও চুম্বক মিটারের তারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। তাতে আসলে মিটারে যে অঙ্ক আসা উচিত, তার চেয়ে অনেক কম আসছে। আসানসোল ও রানিগঞ্জের একটি দল বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মোটা টাকায় এই কাজ করে দিচ্ছে বলে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা জেনেছে। সংস্থার এক কর্তা বলেন, ‘‘দু’ধরনের চুরির ক্ষেত্রেই আমাদের এক শ্রেণির কর্মী জড়িয়ে রয়েছেন বলে খবর পাচ্ছি।’’ সংস্থার আসানসোল শাখার আধিকারিক শ্রীমন্ত রায় বলেন, ‘‘আমরা অভিযান শুরু করেছি। থানায় অভিযোগও দায়ের হচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরি রুখতে এই অভিযান চলবে।’’

massive hooking artified electric meter kulti dvc colony sushanta banik
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy