Advertisement
E-Paper

বৈঠক নিষ্ফলা, শ্রীপুরে খনির কাজ বন্ধই

গ্রামবাসীরা অনড় পুনর্বাসন ও চাকরির দাবিতে। কিন্তু তা মানা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে ইসিএল। যার জেরে খনি সম্প্রসারণের কাজ বন্ধই রয়েছে শ্রীপুরে। জট কী ভাবে কাটবে, চিন্তায় পড়েছেন আধিকারিকেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০০:৩৮
বুধবারও বন্ধ সম্প্রসারণের কাজ। নিজস্ব চিত্র।

বুধবারও বন্ধ সম্প্রসারণের কাজ। নিজস্ব চিত্র।

গ্রামবাসীরা অনড় পুনর্বাসন ও চাকরির দাবিতে। কিন্তু তা মানা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে ইসিএল। যার জেরে খনি সম্প্রসারণের কাজ বন্ধই রয়েছে শ্রীপুরে। জট কী ভাবে কাটবে, চিন্তায় পড়েছেন আধিকারিকেরা।

শ্রীপুর এরিয়ার ভানোড়া ওয়েস্ট কোলিয়ারির সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইসিএল। নতুন একটি খোলামুখ খনি হবে সেখানে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শুরু হতেই লাগোয়া পড়িরা গ্রামের বাসিন্দারা বিরোধিতায় নেমেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়লা খনন শুরু হলেই এলাকায় ধস নামবে, ঘর-বাড়িতে ফাটল ধরবে। এলাকায় দূষণও ছড়াবে। সে জন্য গ্রামের হাজারখানেক বাসিন্দার পুনর্বাসন না দিলে কাজ শুরু করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে গ্রামের বেকার যুবকদের প্রকল্পে চাকরি দিতে হবে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

সোমবার সকালে ইসিএলের কর্মী-আধিকারিকেরা যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করতে গেলে গ্রামবাসীরা বাধা দেন। সমস্যা মেটাতে মঙ্গলবার বিকেলে তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইসিএলের কর্তারা। দীর্ঘ বৈঠকেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। ফলে, বুধবারও কাজ শুরু করতে পারেননি খনি কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকেই প্রকল্প এলাকার সামনে বিক্ষোভ শুরু করে দেন কিছু বাসিন্দা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নরেন্দ্র মুর্মু। তিনি বলেন, ‘‘আমরা খনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, এখানে কোলিয়ারি হলে জনজীবন বিপন্ন হবে। তাই গ্রামবাসীদের পুনর্বাসন দিতে হবে। সেই সঙ্গে ৬০ জনকে চাকরি দিতে হবে।’’ তাঁর আরও দাবি, তাঁরা খনি সম্প্রসারণের বিপক্ষে নন। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রয়োজনের কথাও মাথায় রাখতে হবে ইসিএলকে।

ইসিএলের শ্রীপুর এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার শিউপুজন ঠাকুর অবশ্য বলেন, ‘‘বাসিন্দারা যে দাবি করেছেন, তা কোনও ভাবেই মানা সম্ভব নয়।’’ তিনি জানান, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

ইসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীপুর এরিয়ার পরিস্থিতি এখন খুব একটা ভাল নয়। এই এরিয়ার সমস্ত খনির মোট দৈনিক উৎপাদন ৫০০ টনেরও কম। দৈনিক গড় লোকসান প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। তাই ঘুঁড়ে দাঁড়াতে হলে খনি সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। সে জন্য আসানসোল পুরসভার পড়িরা মৌজা ও বারাবনির মাজিয়ারা মৌজায় একশো একরেরও বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমির উপযুক্ত দাম ও ১৪৮ জন জমিদাতাকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

ইসিএল কর্তৃপক্ষের দাবি, খনি সম্প্রসারণে যাঁরা বাধা দিচ্ছেন তাঁদের কেউ জমিদাতা নন। এমনকী, খনি চালু হলে তাঁরা কোনও ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। সংস্থার এক কর্তার অভিযোগ, যেখানে খনি সম্প্রসারণ হচ্ছে সেখানে এখন কিছু অবৈধ খনি আছে। ইসিএল সেখান থেকে কয়লা তুলতে শুরু করলে চোরেরা কয়লা কাটতে পারবে না। বিরোধিতার পিছনে পরোক্ষে তাদের ইন্ধনও থাকতে পারে বলে তাঁদের অনুমান।

গ্রামবাসীদের এই আচরণের বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক নেতারা। সিটু নেতা বংশগোপাল চৌধুরী বলেন, ‘‘বিস্ফোরণে ঘড়-বাড়ির ক্ষতি হলে তা পূরণ করবে ইসিএল। কিন্তু খনির কাজে বাধা মেনে নেওয়া যায় না।’’ আইএনটিইউসি নেতা চণ্ডী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘গ্রামবাসীদের এমন কিছু করা ঠিক নয় যাতে সংস্থার ক্ষতি হয়।’’ তৃণমূলের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক পাপ্পু উপাধ্যায় বলেন, ‘‘জমিদাতারা চাকরি পেয়েছেন। এখন বাসিন্দারা পুনর্বাসনের দাবি জানাতে পারেন, তবে খনির কাজ বন্ধ করা ঠিক নয়।’’

এডিসিপি (সেন্ট্রাল) জে মার্সি জানান, ইসিএলের তরফে তাঁরা পিটিশন পেয়েছেন। তদন্ত হচ্ছে। বিশদ রিপোর্ট এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sripur Mining work
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy