আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ। ধৃতের নাম কিরীটি বৈরাগ্য। মেমারি থানার দোলুইবাজারে তাঁর বাড়ি। বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় অর্থ আত্মসাতের কথা ধৃত কবুল করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন জড়িত বলে পুলিশের অনুমান। ধৃতকে বুধবারই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধার করতে এবং বাকি জড়িতদের হদিস পেতে ধৃতকে পাঁচ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতের চার দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রসুলপুরের দোলুইবাজার এলাকায় ওই রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র রয়েছে। টাকা তোলার আবেদন করেও তা না পেয়ে মঙ্গলবার বেশ কিছু গ্রাহক ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। গ্রাহকেরা অভিযোগ করেন, পরিষেবা কেন্দ্রে টাকা তুলতে গেলে কখনও লিঙ্ক নেই, আবার কখনও আঙুলের ছাপ মিলছে না বলে ফিরিয়ে দেওয়া হত। গ্রাহকদের বিক্ষোভের পরই টনক নড়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের। সে দিনই ব্যাঙ্কের ম্যানেজার মানিক পাল মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে গ্রাহকদের অভিযোগের সারবত্তা মেলে। কিরীটি কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে আসে। যদিও ব্যাঙ্কের ম্যানেজার যে অভিযোগ করেছেন, তাতে তছরুপ হওয়া অর্থের পরিমাণের উল্লেখ নেই। তবে, বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকদের অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে তা অভিযুক্ত হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।