ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানিকেন্দ্রের বাইরে ছড়াল উত্তেজনা! শুক্রবার বর্ধমানের জেলাশাসকের দফতরে যখন এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি চলছিল, সেই সময়েই তৃণমূলের কাউন্সিলর সনৎ বক্সির সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার সময়ে বহু মানুষ জেলাশাসকের দফতরের সামনে শুনানির জন্যে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, এসআইআর শুনানির মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই রাজনৈতিক উত্তেজনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক দফতের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, হঠাৎই তিরিক্ষি মেজাজে সনৎ কয়েক জন বিজেপি কর্মীর সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে যে শুনানিতে আসা সাধারণ মানুষ ও উৎসুক জনতা জটলা করে দাঁড়িয়ে পড়েন।
এই ঘটনায় সনতের দাবি, তাঁকে নিয়ে এক বিজেপিকর্মী সমাজমাধ্যমে কুৎসা রটিয়েছেন। সেই পোস্টে অভিযোগ করা হয়, বাড়ি তৈরির জন্য ওই বিজেপি কর্মীর কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন এবং ওই কর্মীর মাকে অপমান করেছেন। জেলাশাসকের দফতরে ওই বিজেপি কর্মীকে দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সনৎ এবং তীব্র ভাষায় তাঁকে আক্রমণ করেন বলে জানা গিয়েছে। সনৎ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে সমাজমাধ্যমে মানহানি করা হয়েছে।”
অন্য দিকে, বিজেপিকর্মীরাও পাল্টা জবাব দেন। তাঁদের দাবি, কাউন্সিলর সত্যিই টাকা নিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সনৎ আর বেশি দূর বিষয়টি টানেননি। কার্যত তিনি পিছু হটেন। এ দিকে বিজেপি নেতা মৃত্যঞ্জয় চন্দ্রের অভিযোগ, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর ওই বিজেপি কার্যকর্তাকে মারধর করেন সনৎ। শুধু তা-ই নয়, বাড়ি তৈরির জন্য টাকা নেওয়া ও তাঁর মাকে মারধরের অভিযোগও তোলেন তিনি। মৃত্যঞ্জয় বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে কাউন্সিলর সরাসরি যুক্ত।”
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর। সনতের পাল্টা দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীরা ঘরছাড়া হয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনিই তাঁদের আবার বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।