পুকুর সংস্কার করার সময় উদ্ধার হল প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি। বর্তমানে ওই মূর্তিটি স্থান পেয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায়। পূর্ব বর্ধমানের মেমারির ঘটনা।
বৃহস্পতিবার সকালে মেমারি থানা এলাকার দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়ল গ্রামে পুকুরের মাটি কেটে তোলার সময় যন্ত্রে উঠে আসে প্রাচীন একটি বিষ্ণুমূর্তি। স্থানীয়েরা ওই মূর্তি দেখে বুঝতে পারেন মূর্তিটি বহু বছরের প্রাচীন। খবর যায় স্থানীয় থানায়। শুক্রবার পুলিশ গ্রামে পৌঁছে ওই মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে থানা থেকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে খবর দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালার কর্মীরা থানায় এসে ওই মূর্তি সংগ্রহ করে নিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালাতেই রাখা হবে মূর্তিটিকে।
গবেষকদের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া কষ্টি পাথরের মূর্তিটি অন্তত হাজার বছরের প্রাচীন। বিগ্রহের উপরের দিকে রয়েছে কীর্তিমুখ। দু’পাশে আছে লক্ষ্মী ও সরস্বতীমূর্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের ‘ভেবার পাড়’ নামের একটি পুকুর মজে গিয়েছিল। তাই মালিক তা সংস্কারের উদ্যোগ নেন। সেই মতো দিন কয়েক আগে যন্ত্র দিয়ে পুকুর থেকে মাটি ও পাঁক তোলার কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয় ব্যাসল্ট পাথরের প্রাচীন মূর্তি। ওই মূর্তিটি গ্রামের মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করেন গ্রামের বাসিন্দারা। পুলিশের তৎপরতায় মূর্তিটি সংগ্রহশালায় স্থান পায়।
আরও পড়ুন:
এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালার কর্মী শ্যামসুন্দর বেরা বলেন, “মূর্তিটি একাদশ শতকের সেন আমলের মূর্তি বলেই মনে করা হচ্ছে। কালো ব্যাসল্ট পাথরের বিষ্ণুমূর্তিটি উচ্চতায় ৩১ ইঞ্চি এবং প্রস্থে ১৫ ইঞ্চি। বিগ্রহের মুখের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে। মূর্তির উপরের ডান হাতে গদা এবং বাম হাতে চক্র আছে। তবে নীচের দিকের দু’টি হাত ভাঙা। মূর্তি তত্ত্বের ব্যাখ্যা অনুসারে মূর্তিটি ‘ত্রিবিক্রম’ শৈলীর।’’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, মাসখানেক আগে রায়নার পলাসন গ্রামে একটি পুকুর সংস্কার সময়ে একই রকম প্রাচীন একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার হয়েছিল।