সন্দেশখালিতে এ বার পুলিশের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল। ভাঙচুর করা হল পুলিশের গাড়িও। আহত হলেন এক পুলিশ আধিকারিক-সহ চার জন। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা মুসা মোল্লা এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এলাকায় মুসা তৃণমূলকর্মী হিসাবেই পরিচিত। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ন’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বয়ারমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপপ্রধানকে।
মুসার বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। তার পরই ওই জমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করে আদালত। কিন্তু শুক্রবার রাতের অন্ধকারে ওই জমিতে মুসা পাঁচিল তোলার কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ। তার পরেই খবর যায় পুলিশের কাছে। রাতেই রাজবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ বয়ারমারিতে মুসার বাড়িতে যায় এবং তাঁকে থানায় যেতে বলে। তখন মুসা তাঁর অনুগামীদের ফোন করে ডেকে এনে পুলিশের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। আহত পুলিশকর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয় মিনাখাঁ হাসপাতালে। পরে অবশ্য প্রত্যেককেই ছেড়ে দেওয়া হয়।
সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো এই প্রসঙ্গে বলেন, “দলের কেউ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকলে, উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।
আরও পড়ুন:
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা (এখন সাসপেন্ড) শাহজাহান শেখের বাড়িতে গিয়ে হামলার মুখে পড়়েছিল ইডি। শাহজাহানের বাড়ির সামনে ইডি আধিকারিকেরা পৌঁছোতেই ধীরে ধীরে লোক জড়ো হতে শুরু করে। ইডির দাবি, ৮০০ থেকে ১০০০ লোক সে দিন তাঁদের ঘিরে ধরেছিলেন। প্রত্যেকেই শাহজাহানের অনুগামী। তাঁদের আক্রমণে আহত ইডির তিন আধিকারিককে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। মাথাও ফাটে এক জনের। সে দিন সন্দেশখালির বাড়িতে শাহজাহানের দেখা পায়নি ইডি। তার আগেই মার খেয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়। পরে আদালতে ইডি জানায়, শাহজাহান সে দিন বাড়ির ভিতরেই ছিলেন। সেখান থেকে ফোন করে তিনি বাড়ির বাইরে লোক জড়ো করেছিলেন। হট্টগোলের মাঝে পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। শাহজাহান এখন জেলবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। জেলবন্দি অবস্থায় সন্দেশখালির নানা ব্যক্তিকে হুমকি, হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।