Advertisement
E-Paper

বুর্ধেন্দুর বিরুদ্ধে একজোট নিত্যানন্দ-চঞ্চল

রটন্তী কালীপুজোর রাত। এক বাড়িতে পাশাপাশি বসে প্রসাদ খাচ্ছেন তৃণমূলের একসময়ের যুযুধান দুই নেতা —চঞ্চল গড়াই ও নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। অবাক নিমন্ত্রিতরাও।কেন? গুসকরার এতদিনের রাজনীতিতে এক দলের ওই দুই নেতার মধ্যে যে কার্যত মুখ দেখাদেখি নেই, তা জানেন বাসিন্দারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:২৩
বাঁ দিকে, চঞ্চল গড়াই ও ডান দিকে, নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

বাঁ দিকে, চঞ্চল গড়াই ও ডান দিকে, নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

রটন্তী কালীপুজোর রাত। এক বাড়িতে পাশাপাশি বসে প্রসাদ খাচ্ছেন তৃণমূলের একসময়ের যুযুধান দুই নেতা —চঞ্চল গড়াই ও নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। অবাক নিমন্ত্রিতরাও।

কেন? গুসকরার এতদিনের রাজনীতিতে এক দলের ওই দুই নেতার মধ্যে যে কার্যত মুখ দেখাদেখি নেই, তা জানেন বাসিন্দারা। পুরসভার নানা ঘটনায় তাঁরা পরস্পরকে প্যাঁচে ফেলার চেষ্টা করছেন, এমনটাও দেখা গিয়েছে। তবে মঙ্গলবার গুসকরায় দলের আর এক নেত্রী মল্লিকা চোঙদারের সঙ্গে নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য মারামারিতে চেনা সমীকরণ এ বার বদলে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন দলের অন্য কর্মীরাই। ওই দুই যুযুধান নেতাও কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন সে কথা।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, ২০১৩ সালের পুরনির্বাচনে নিত্যানন্দবাবু যাতে দলের প্রার্থী হতে না পারেন তার জন্য চঞ্চলবাবু কম চেষ্টা করেননি। এরই পাল্টা হিসাবে চঞ্চলবাবুর ‘অনুগামী’ বুর্ধেন্দু রায়কে পুরসভার প্রার্থী করার টোপ দিয়ে নিত্যানন্দবাবু নিজের দলে ভিড়িয়ে নেন বলেও জানা যায়। তৃণমূলের কর্মীদের দাবি, ওই দুই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের শিষ্য ছিলেন বুর্ধেন্দু রায়। কিন্তু দুই নেতার পরস্পরের পছন্দের লোককে আটকানো এবং দলের আরেক নেত্রী মল্লিকা চোঙদারের সমর্থনে গুসকরার পুরপ্রধান পদ পেয়ে যান তিনি। শুরুর দিকে বছর খানেক নিত্যানন্দবাবুর পরামর্শেই বুর্ধেন্দুবাবু পুরসভা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু ‘মধুচন্দ্রিমা’ কাটতেই পুরপ্রধানের কাজের ভুল ধরতে শুরু করেন নিত্যানন্দবাবু। তাতে অক্সিজেন যোগাতে থাকেন গুসকরার প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা বর্তমানে দলের শহর সভাপতি চঞ্চল গড়াই।

গুসকরার এক বিরোধী নেতার দাবি, “মঙ্গলবারে পুরভবনের ঘটনার পর বোঝা যাচ্ছে নিত্যানন্দবাবু ও চঞ্চল গড়াইয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। যার ‘ব্লু প্রিন্ট’ তৈরি হয়েছিল সেই রটন্তী কালী পুজোর রাতে।”

নিত্যানন্দবাবুরও দাবি, “আমরা পুরপ্রধানের অপসারন চেয়ে দলের বিভিন্ন স্তরে চিঠি দিয়েছি। পুরপ্রধান ভেবেছিলেন, দলের দুই মেরুর নেতা কোনও দিন এক হতে পারবেন না। সেই সুযোগে তিনি দুর্নীতি করবেন। কিন্তু পুরবাসীর স্বার্থে তা হতে দেব না।” তাঁর আরও দাবি, “আমার ও চঞ্চলবাবুর হতে তিন জন করে মোট ৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। এ ছাড়াও পুরপ্রধানের অপসারনের দাবিতে আমাদের সঙ্গে থাকবেন উপপুরপ্রধান সহ অন্তত দু’জন। দল যদি পুরপ্রধান পদ থেকে না সরায় তাহলে আমরা ৮-৯ জন মিলে অনাস্থা আনব। আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য, বুর্ধেন্দুকে আমরা পুরপ্রধান পদে মানব না।”

চিঠিতে কী লেখা আছে? নিত্যানন্দবাবুর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, “পুরপ্রধানের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কী কারণে সদস্যরা পুরপ্রধানকে চাইছেন না তাও লেখা রয়েছে। ওই চিঠি দলনেত্রী, জেলা সভাপতি থেকে দলের পর্যবেক্ষককে দেওয়া হয়েছে।” নিত্যানন্দবাবুর দাবি, “শুক্রবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের বর্ধিত সভা রয়েছে। সেখানে কী বার্তা দেওয়া হয় দেখি। তারপর ওই চিঠি প্রকাশ্যে নিয়ে আসব।”

তবে নিত্যানন্দবাবুর সঙ্গে হাত মেলানোর কথা সরাসরি মানতে চাননি চঞ্চলবাবু। তাঁর কথায়, “একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একই কথা বলা মানে কী দু’জনেই এক হয়ে গেলাম! কে পুরপ্রধান থাকবেন কী থাকবেন না, সেটা বলার অধিকার আমার নেই।” একই কথা বলেন উপপুরপ্রধান চাঁদনিহারা মুন্সি। তাঁর কথায়, “পুরপরিষেবা নিয়ে আমরা বলতে পারি। কিন্তু দলের অভ্যন্তরে কী হচ্ছে তা নিয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারি না। পুরপ্রধানকে সরানোর ব্যাপারে আমি নেই।”

নিত্যানন্দবাবুর দাবিকে গুরুত্ব দিতে একদমই নারাজ পুরপ্রধান বুর্ধেন্দু রায়। তাঁর কথায়, “আমি কী দুর্নীতি করেছি একটা প্রমাণ দেখাতে পারবে? পারবে না। খালি চিৎকার করে বেড়াবে। কেন চিৎকার করছেন, তাও আমার অজানা নয়। দলের পর্যবেক্ষক অনুব্রতবাবুকে সব জানিয়েছি। উনিই সঠিক বিচার করবেন।” বুর্ধেন্দুর পাশে থাকা মল্লিকাদেবী বলেন, “পুরসভায় যাঁরা স্বেচ্ছাচারী করতে পারছেন না, তাঁরাই পুরপ্রধানকে হেনস্থা করতে চাইছেন। এর প্রতিবাদ আমি করেছি, ভবিষ্যতেও করব।”

আর পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘‘নিতান্যন্দ কোন হরিদাস পাল, যে ওকে সরানোর দাবি তুলেছে। বিষয়টি দেখছি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy