সপ্তাহান্ত পর্যন্ত আর দেখা মিলল না নিপা ভাইরাসের। শনিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে চার জনের নমুনা নিপা পরীক্ষার জন্য কল্যাণী এমসে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর সব রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে।
এমস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দু’জন নার্সের নমুনা ছাড়া শনিবার দুপুর পর্যন্ত মোট ১৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব রিপোর্টই নেগেটিভ। তবে দুই নার্স কী ভাবে আক্রান্ত হলেন, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞেরা। সংক্রমণের উৎস খুঁজতে প্রয়োজনে মৃতদেহ কবর থেকে তুলে নমুনা পরীক্ষার কথাও ভাবা হচ্ছে একটি সূত্রের দাবি। তবে সে ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এবং একাধিক স্তরে প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়ার বিষয় রয়েছে।
গত ১০ জানুয়ারি গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসক কল্যাণী এমসের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই হাসপাতালের দুই নার্সের নমুনা নিপা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তার পর থেকেই সংক্রমণের উৎস খুঁজতে সমীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। আক্রান্ত এক মহিলা নার্স সংক্রমণের কিছু দিন আগে কৃষ্ণগঞ্জের ঘুঘড়াগাছি গ্রামে একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেই সূত্রে ওই গ্রাম থেকেই সংক্রমণের আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দল সেখানে গিয়ে প্রাথমিক ভাবে তেমন প্রমাণ পাননি। ওই নার্স খেজুরের রসও খাননি বলে জানা গিয়েছে। সেই বিয়েবাড়িতে উপস্থিত ব্যক্তিদের নজরে রেখেও দেখা গিয়েছে, প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও কারও সংক্রমণের উপসর্গ নেই।
বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে যে অসুস্থ মহিলার সেবায় নিযুক্ত ছিলেন দুই নার্স, তাঁর আগেই মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় ওই মহিলার নিপা পরীক্ষা করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সেই পরীক্ষা করা গেলে সংক্রমণের সূত্র পাওয়া যেতে পারত। তবে আপাতত যে নতুন সংক্রমণের খবর নেই, এটাই স্বাস্থ্য দফতর তথা মন্ত্রকের কাছে স্বস্তির খবর। এ দিন কল্যাণী এমসের সংক্রামক রোগ বিভাগের অধ্যাপক সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দু’জন নার্স আক্রান্ত হওয়ার পর ১৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, সব রিপোর্টই নেগেটিভ। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)