আলুর দাম পাচ্ছেন না। অভিযোগ, সেই অবসাদে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক কৃষক। মৃতের নাম বুলবুল মণ্ডল। বয়স ৩২ বছর। বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের গলসির রামনগরে।
পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বুলবুলের দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে দেহ। বুলবুলের বাড়ির দাবি, ঋণ নিয়ে চাষ করার পর আলুর ঠিকঠাক দাম না পাওয়ায় প্রভূত ক্ষতির আশঙ্কায় আত্মহত্যা করেছেন কৃষক। মৃতের কাকা আব্বাস আলি বলেন, ‘‘নিজের এক বিঘা আর ভাগের চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিল। চাষের জন্য একাধিক লোকের কাছে ঋণ করেছিল। কিন্তু এ বছর আলুর দাম না থাকায় সেই টাকা কী ভাবে শোধ করবে, সেই নিয়ে দুশ্চিন্তা করছিল ও। কয়েক দিন পরেই বুলবুলের বোনের বিয়ে। সেখানেও বড় খরচের বিষয় আছে। এই সব চিন্তা করে আত্মহত্যা করেছে সে।’’
যদিও পরিবার-পরিজনদের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে গলসি-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ পার্থসারথী মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘যে কোনও মৃত্যুই দুঃখের। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করলেন তা সঠিক ভাবে বলতে না পারলেও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পেরেছি। বাকিটা পুলিশ বলবে।’’ পাল্টা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার উদাসীন। কৃষকেরা আলুচাষ করে ঘোর সঙ্কটে। বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে না। কেনার লোক নেই। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে আলু কেনার কথা বললেও আদতে তা কেনা হচ্ছে না। কিন্তু সরকারি ভাবে বলা হয়েছে, প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ৭০ বস্তা আলু কিনবে কৃষিজ বিপণন দফতর। সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে। এতে কি কৃষকদের সমস্যার সমাধান হবে?’’
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর আলুর উৎপাদন হয়েছে প্রচুর। ফলে মাঠে আলু পড়ে থাকলেও ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার কৃষকদের স্বস্তি দিতে সহায়ক মূল্যে আলু কেনার ঘোষণা করেছে। কৃষি দফতর সূত্রে খবর, এ বছর পূর্ব বর্ধমানে ৬৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। অন্য দিকে, মেমারিতে আলু বিক্রি নিয়ে সমস্যার জেরে গত শুক্রবার কিষানমান্ডির সামনে বসে বিক্ষোভ দেখান কৃষকেরা। অভিযোগ, সরকারি ঘোষণামাফিক আলু বিক্রি করতে পারছেন না তাঁরা।